সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের সাঁওতালদের নিয়ে গান

image
ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশ: ২০২০/০১/১৪ ০৩:৫৬

সাহেবগঞ্জের মিঠাই রসে নুন স্বাদ ক্যান লাগেরে/ বসত-ভিটা হারায়ে মোদের আকাশ বড়া হয়রে/ বালা দিদিরে/ আয় আয় সব আয় তোরা রক্ত সিদুঁর মেখে/ বালা দাদারে/ আয় আয় সব দাঁড়াই মোরা কোমর বান্ধা করে/ হুল হুল হুল হুলে হুলে, হুল হুল হুল হুলে হুলে।

জাতিতাত্বিক লোকায়ত জ্ঞান ও সংস্কৃতি পাঠকেন্দ্র মৃত্তিকার আয়োজনে গাইবান্দা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের সাঁওতাল আদিবাসীদের সংগ্রামী জীবন নিয়ে লেখা এমন একটি গান খুব শীঘ্রই প্রকাশ হতে যাচ্ছে। গানটির কথা লিখেছেন জুয়েল বিন জহির। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করছেন যাদু রিছিল। গানটিতে কন্ঠ দিচ্ছেন টগর দ্রং, যাদু রিছিল’সহ বেশ কয়েকজন তরুণ কন্ঠ শিল্পী।

গান প্রসঙ্গে মৃত্তিকার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অস্তিত্ব রক্ষায় ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর জ্বলে উঠেছিল সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর ভূমি থেকে ১৯৫৬ সালে অধিগ্রহণের নামে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল-বাঙালিরা। পুলিশ, চিনিকল কতৃর্পক্ষ ও রাষ্ট্র যন্ত্রের নির্মমতায় প্রাণ হারান শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু, আহত হন অনেকে।

নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিরন্তর সংগ্রামী সাঁওতাল জাতি ১৮৫৫ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র সংগ্রাম বা হুলের ডাক দিয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে শ্যামল, মঙ্গল আর রমেশ টুডুরা নিজেদের রক্তে আবারো জানান দিয়ে গেছেন লড়াইয়ের কোন বিকল্প নাই, চেতনার বিনাশ নাই।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের সাঁওতালদের আত্মদানের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা আর পূর্ণ সংহতি। সিধু-কানুদের উত্তরসুরী শ্যামল-মঙ্গল-রমেশরা হাজির হবে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। সেই ইতিহাস নিপীড়িতের টিকে থাকার, আমৃত্যু লড়ে যাবার। পৃথিবীর সকল নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার যে শ্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে সারা দুনিয়ায় সেই শ্লোগানের বার্তা একেবারে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে মৃত্তিকা সংস্কৃতি কেন্দ্র’র এই সামান্য প্রচেষ্টা।

উল্লেখ্য, এটি মৃত্তিকার দ্বিতীয় গান। সংগঠনটি এর আগেও ২০১৭ সালে ‘নাচবে পাহাড় গাইবে পাহাড়’ শিরোনামে প্রথম গান প্রকাশ করে।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন