বন বিভাগ থাকলে আগামী ৫০ বছরে কোন বন থাকবে না

image

প্রকাশ: ২০২০/০৯/১৮ ০০:৩৬

বন বিভাগের দর্শন সাম্প্রদায়িক, বাঙালির, লুটপাটের দর্শন। এই দর্শন দ্বারা বন বিভাগ চলছে। বনের প্রধান শত্রু হচ্ছে বন বিভাগ। বন বিভাগ থাকলে আগামী ৫০ বছরে দেশে কোন বন থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর), রাত ৮টায় ‘মধুপুরে বন বিভাগের কলা বাগান নিধনঃ আদিবাসীদের জীবন জীবিকার উপর আগ্রাসন’ শীর্ষক আয়োজিত এক ওয়েবিনারে সাংবাদিক বিপ্লব রহমান এমন ক্ষুরধার মন্তব্য করেন। মধুপুরে বন বিভাগ কর্তৃক কলাবাগান নিধনের ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এবং এটি নাক চ্যাপ্টাদের উপর রাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিপীড়নের অংশ বলেও মনে করেন তিনি।

বাসন্তী রেমার কলা বাগান নিধন প্রসঙ্গে গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ বলেন, টাঙ্গাইল বন বিভাগ অহেতুক নির্দয় আচরণ করেছে। বিষয়টি এমন নয় যে, এটি প্রথম ঘটনা, এর আগেও এমনটি ঘটেছে এবং অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে, যার একটিরও বিচার হয়নি। মধুপুরে বন বিভাগ ও বনবাসীর দ্বন্ধে প্রথম নিহত বিহেন নকরেক হত্যার যদি বিচার হতো তবে আমি মনে করি অন্য হত্যাকান্ড গুলো ঘটতো না। বিহেন নকরেক হত্যার বিচার না হওয়া অন্য হত্যাকান্ড গুলো ঘটতে প্ররোচনা জুগিয়েছে।

প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করা এই গবেষক প্রশ্ন ছুড়ে আরও বলেছেন, যাদের কাছে বনের পশু, পাখি, জীব-বৈচিত্র্যের কোন তালিকা থাকে না তারা কী প্রকারে বন রক্ষা করবে? টাঙ্গাইল বনবিভাগকে ফরেস্ট সাইন্স বুঝতে হবে।

মধুপুরে কলা বাগান নিধনে যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তাঁর ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ বনবৃক্ষ হত্যার বিচারের দাবি তুলেছেন পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।

বাংলাদেশে বৈচিত্র্যের পরিসরটা বাঙালি শিক্ষার্থী জানতে পারে না, জানতে দেয়া হয় না, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে গুটি কয়েক মানুষ জাতি-সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা জানতে পারে। এই না জানার দরুন আদিবাসী-বাঙালি-পরিবেশের মধ্যে দ্বন্ধ সমস্যা তৈরী হয়। বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার, জানানোর পরিসর বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল।

আইপি নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আন্তোনি রেমার সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ।#

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন