ঢাকায় ‘উপজাতিদের বাসা ভাড়া দেয়া হয় না’ বৈষম্য

image
—নিজস্ব ছবি

প্রকাশ: ২০২১/০১/২৭ ০০:২৫

গত শতাব্দীতেও ইউরোপ-আফ্রিকার বাসা, হোটেল, টয়লেট, ট্রেন কিংবা বাসের কামড়ায় কালো মানুষদের বিচরণ ছিল নিষিদ্ধ। সেইসব জায়গায় নোটিশ টাঙিয়ে লেখা থাকতো ‘হোয়াইট অনলি’। কালোরা সেইসব জায়গায় যেতে পারতো না। সভ্যতা সেই জায়গা থেকে সরে এসেছে। কমেছে কালো-সাদার বৈষম্য। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমরা বাংলাদেশীরা কি বেরিয়ে আসতে পেরেছি? এমন প্রশ্ন তুলেছেন তরুণ আদিবাসী লেখক উন্নয়ন ডি. শিরা।

নতুন বছরে এসে নতুন ভাড়া বাসা খুঁজতে বেরিয়েছিলেন মি. শিরা। বাসা খুঁজতে গিয়ে উনি জীবন বাস্তবতার ঝুলিতে সঞ্চয় করলেন নতুন অভিজ্ঞতা। শিকার হয়েছেন বর্ণ বৈষম্যের।

গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান নদ্দা এলাকায় বাসা খুঁজতে গিয়ে কেবলমাত্র আদিবাসী হবার দরুন তিনি বাসা পাননি। তিক্ত এ অভিজ্ঞতা মি. শিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শেয়ার করলে নিন্দার ঝড় উঠে।

তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘বাসা খুঁজতে বের হইছিলাম। সব ঠিক ছিল, মাস্ক খুলে চেহারা দেখতেই দারোয়ান কইলো, ‘উপজাতিদের বাসা ভাড়া দেই না, নিষেধ আছে।’

মি. শিরার স্ট্যাটাসের কমেন্টে একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তপন রংমা নামের এক ভূক্তভোগী। তিনি গারো সম্প্রদায়ের। ২০০৩ সালে মি. রংমা নদ্দা-কালাচাঁদপুর এলাকায় আসেন। তখনও আদিবাসী পরিচয় বর্গীয় হবার কারণে তাকে বাড়িঅলারা বাসা ভাড়া দেননি।

শিক্ষা সংস্কার অগ্রগতির এই শতকে বর্ণবৈষম্যের সম্মুখিন হওয়াটা দুঃখজনক বলে মনে করেন কবি মনির সিএইচ সাংমা। তিনি বলেন, কালাচাঁদপুর-নদ্দার কিছু জায়গায় এখনো ‘উপজাতিদের বাসা ভাড়া দেয়া হয় না’ বাক্য শুনতে হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার সাথেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

শুধু কি নদ্দা-কালাচাঁদপুর এলাকায় ভাড়া বাসা পেতে আদিবাসীদের বেগ পেতে হয়? এ প্রসঙ্গ তুলতেই ঢাকার কর্মজীবি নারী মেরী নাফাক মিরপুর এলাকাতেও এমন হয় বলে জানালেন।

বাসা মালিকরা কেন আদিবাসী ভাড়াটিয়া নিতে চায় না জিজ্ঞেস করতেই চবি ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যয় নাফাক বলেন, সাম্প্রদায়িক মনোভঙ্গির কারণেই এমনটা করে। অনেক বাঙালি বাসা মালিক ছেলেদের কাছে বাসা ভাড়া দেয় না কিন্তু মেয়েদের ঠিকই দেয়। বৈষম্যমূলক এই আচরণের অবসান জরুরি।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন