গারো উশু খেলুড়েদের নেই অনুশীলনের মাঠ

image
ছবি : জনজাতির কণ্ঠ

প্রকাশ: ২০১৯/০৭/০৪ ২৩:৫৬

প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে ৮টা সময়ের মধ্যে ঢাকার গুলশান কালাচাঁদপুর বালুমাঠে যদি আসেন তবে দেখতে পাবেন গারো উশু এসোসিয়েশনের খেলোয়ারেরা দলবেধেঁ নিমগ্ন হয়ে মার্শাল আর্ট (উশু) খেলা প্র্যাকটিস করছে। ছেলে মেয়ের সংখ্যা সমান প্রায়। আগে তারা কালাচাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্র্যাকটিস করতো, অজানা কারনে সেখানে আর অনুশীলন করা হয়ে উঠছে না। মান বিবেচনায় বালু মাঠের চেয়ে স্কুল মাঠ ভালো। ঝকঝকে পরিপাটি শুকনো। ভালো মাঠ রেখে বালু মাঠে কেন? প্রশ্ন করেছিলাম গারো উশু শিক্ষার্থী মহৎ তজুকে। দ্বিতীয়বার স্কুল কর্তৃপক্ষ আর অনুমতি দেননি তাই ওখানে খেলা হয়ে উঠে না বলে জানালেন তিনি।

বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন কর্তৃক অনুমোদিত সংগঠন গারো উশু এসোসিয়েশন। এটি গারো সম্প্রদায়ের একমাত্র উশু সংগঠন। সংগঠনটি পরিচালনা করছেন ওস্তাদ ইলিয়াস ম্রং, সহকারী ওস্তাদ হিসেবে আছেন শিমিয়োন বাজি। সংগঠনটি অনেকের কাছেই আনকোরা অপরিচিত। সংগঠন কেন উশু খেলার সাথেই অনেকের পরিচয় কম। উশু যে একটি খেলা তা অনেকের কাছেই অজানা। অনেকের মতে এটা শুধু মারামারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি ভুল ধারণা। প্রকৃত পক্ষে উশু খেলাটি সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের নিমিত্তে একটি জাতীয় ও বিশ্ব মানের খেলা। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে। এটি স্বাস্থ্য রক্ষা ও সম্মান রক্ষার্থে একটি কৌশলী খেলা। আশির দশকে খেলাটি বাংলাদেশে আর্বিভূত হয়। প্রায় চার হাজার বছর আগে চীন দেশে খেলাটি শুরু হলেও এর গুণাগুণ প্রতিপাদ্য সমগ্র বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বর্তমানে খেলাটি শতাধিক দেশে জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে আশির দশকে এই খেলা শুরু হলেও গারো উশু এসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা শুরু‍ করেছে ২০০৫ সালে। এরমধ্যেই বিভিন্ন জাতীয় ইভেন্টের খেলায় অংশ নিয়েছে গারো উশু খেলোয়ারেরা। গেল বছরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত মিনিস্টার কাপ-১৮, জাতীয় যুব গেমস-১৮, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চায়না অ্যাম্বাসেডর ডেমোনস্ট্রেশন ইত্যাদির মতো বড় বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুব গেমসে ক্লাবের পক্ষে থাইচি খেলায় অংশ নিয়ে সিলগিয়া রিছিল ও যিহুশয় নাফাক দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।

উশু খেলা গারো ছেলেমেয়েদের মধ্যে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। জাতীয় লেভেলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতমূলক খেলায় জয়ী কিংবা সন্তোষজক পারফর্ম করতে পারলে আর্মি, পুলিশ, আনসার, বিজিবি কিংবা ডিফেন্সে যোগদানের অবারিত সুযোগ আছে।

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভাল মাঠের অভাবে অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটছে গারো উশু শিক্ষার্থীদের। খেলার অনুপযোগী খানাখন্দে ভরা বালু মাঠে অনুশীলন করেই সন্তোষ্টির ঢেঁকুর তুলতে হচ্ছে। কিছু করার নেই। সত্যিই কিছু করার নেই? চায়ের আড্ডায় একে অপরকে প্রশ্ন করে তাঁরা।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন