গারো ভাষা-সংস্কৃতি চর্চায় ফাদার হোমরিকের অবদান অবিস্বরণীয়

image

প্রকাশ: ২০২০/০৮/০৭ ০২:৫৩

১৯৬২ সালে ভাটিকান মহাসভার পরে পোপ মহোদয় যখন সারা পৃথিবীতে নিজ নিজ জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি দ্বারা ধর্ম চর্চা করার কথা বলেন তখন ফাদার হোমরিক মধুপুরের গারোদের ভাষা, সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসেন। গারো ভাষা ও সংস্কৃতিকে আধাত্মিক পরিসরে কীভাবে পরিচিত করানো যায় সেলক্ষে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন কাজ করে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

শুক্রবার (৭ আগস্ট), সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল মধুপুরের জলছত্র খ্রিষ্টীয় মিশনে অনুষ্ঠিত সদ্য প্রয়াত ফাদার হোমরিক, সিএসসি’র স্বরণসভায় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ফাদার হোমরিক বিপন্ন গারো সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের জন্য কাজ করেছেন। এলক্ষ্যে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে নিজেও লেখালেখি করেছেন।

স্বরণসভায় ফাদার হোমরিকের আত্মার প্রতি চিরশান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

পরে ফাদারের কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে বর্ষীয়ান আদিবাসী রাজনীতিক অজয় মৃ, আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং, ফাদার ডোনাল ক্রুজ প্রমুখ সহভাগিতা করেন।

প্রসঙ্গত: গত ২৫ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ফাদার হোমরিক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ষাটের দশকে গারো, কোচ, মান্দাই অধ্যুষিত মধুপুরে আসেন এবং আদিবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফাদার হোমরিক মধুপুর বনে অনেক মুক্তিকামী মানুষকে আশ্রয় দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মিশনের মাধ্যমে নানাভাবে সহযোগিতা করায় যুদ্ধ শেষে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন

বাছাইকৃত সংবাদ