ডিএনসিসি নির্বাচনে গারো ভোটারদের প্রত্যাশা

image
ডিএনসিসি’র লগো। ছবি : সংগৃহীত

প্রকাশ: ২০২/০১/২৬ ০২:৪৪

আশি নব্বই দশকে জীবন জীবিকার তাড়নায় গারো আদিবাসীরা আবাসভূমি ছেড়ে ঢাকা শহরে পাড়ি জমাতে শুরু করেন। সেই শুরু যা এখনো চলমান। বড়দিন কিংবা ইস্টার সানডে ছাড়া গারোরা খুব বেশি গ্রামের বাড়ি যান না। নিজ জাতিসত্তার প্রধান উৎসব ওয়ানগালা ঢাকা শহরে ঘটা করে উদযাপন করেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে ঢাকায় থিতু হয়ে ভোটার হয়েছেন। অন্যান্য সময়গুলোতে এই প্রান্তিক নাকচ্যাপ্টা মানুষগুলোর মূল্যায়ন না থাকলেও নির্বাচনকালীন সময়ে প্রান্তিক মানুষগুলো হয়ে উঠেন গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাঘাটে চুং চাং, চাইনিজ টাইপ স্লেজিংয়ের শিকার হওয়া মানুষগুলোর সাথে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনকালীন সময়ে হাত মেলান। সহজ সরল আদিম মানুষগুলো এতেই খুশি। এমন খুশির চিত্র শুক্রবার দেখা গেল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী এলাকা ১৮ নং ওয়ার্ডের কালাচাঁদপুর এলাকায়। এখানকার জনপ্রতিনিধিদের অন্যান্য ভোটারদের সাথে করমর্দনের পাশাপাশি গারো ভোটারদের আলিঙ্গনে বেঁধে নেয়ার ‍দৃশ্য দেখা গেছে।

ঢাকা ওয়ানগালা কমিটি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, নদ্দা-কালাচাঁদপুর এলাকায় প্রায় বিশ হাজারের অধিক গারো আদিবাসী বসবাস করেন। ১৮ নং ওয়ার্ডে গারো ভোটার সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি (পূর্বে আরও ছিল)।

গারো পাহাড় ছেড়ে ঢাকা শহরে থিতু হওয়া এই মানুষগুলো এখন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ১লা ফেব্রুয়ারী, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। একজন গারো ভোটার হিসেবে এই নির্বাচনে কী প্রত্যাশা করেন? সুনিলা ম্রং নামের এক গারো ভোটারকে এমন প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বাসা বাড়িতে কাজ করেন। উত্তর দিলেন চটপটে নাগরিক কায়দায়, ‘ঢাকায় পার্লার-বাসা বাড়িতে কাজ করা গারো নারীর সংখ্যা বেশি, যিনিই কাউন্সিলর কিংবা মেয়র নির্বাচিত হন অনুরোধ থাকবে এই পেশার মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে যেন ‍যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেন।’

বৃহত্তর নদ্দা-কালাচাঁদপুর, শাহজাদপুর, বাড্ডা এলাকায় গারো সম্প্রদায় সংখ্যাধিক্য। জীবিকার জন্য এখানে এসে বসবাস করলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এতোসংখ্যক মানুষের সংস্কৃতি চর্চায় নেই কোন গণ-সংস্কৃতালয় বা সরকারি একাডেমি। এখানে সরকারি একাডেমি স্থাপনের দাবি অতি পুরনো। গেল ঢাকা ওয়ানগালার দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে সিটি করপোরেশনের সেন্টারগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু একবারও কি সেই সেন্টার ব্যবহার করা হয়েছে? ঢাকা ওয়ানগালার সাবেক সেক্রেটারি বিবাল মানখিন জানালেন, ‘ওয়ানগালা উদযাপন করার পর আমরা কোন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম করিনি। আর সিটি করপোরেশনের কোন সেন্টারও ব্যবহার করা হয়নি।’

গারো আদিবাসীরা নৌকা প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে গত ২৪ জানুয়ারী কালাচাঁদপুরে সমাবেশ করেছেন। সেখানেও একাডেমি স্থাপনের দাবি উঠে।

তবে ব্যতিক্রমী বক্তব্য দিলেন জগন্নাথপুরের বাসিন্দা নিগূঢ় ম্রং। তিনি ডিএনসিসি ১৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার। সিটি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে প্রত্যাশার কথা জিজ্ঞেস করতেই উল্টো তোপ দাগলেন। বললেন, ’১৭ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্যান্য দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নামই জানি না। শুধু আমি না অনেক ভোটারই জানে না। পক্ষ বিপক্ষ জানতে গুগুলের সাহায্য নিলাম। এমন যদি পরিস্থিতি হয় তবে ভোট দেয়ার কী প্রয়োজন?’

১৭ নং ওয়ার্ডের আরেক গারো ভোটার আর্নিকা মারাক প্রত্যাশার কথা জিজ্ঞেস করতে প্রকাশ করলেন আশঙ্কা। বললেন, ‘ভোট তো দিতাম নৌকায়, কিন্তু যে পরিস্থিতি, ভোট দিতে গিয়া গন্ডগোলের জন্য ভয় লাগে। গত নির্বাচনে (জাতীয় নির্বাচন) ভোট দিতে গিয়া শুনি ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এইডাতো এলাকার (সিটি) নির্বাচন। এইখানে কী ভোট দিমু?’

এদিকে গারো ভোটারদের ভোট চেয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন (বাবুল)। অন্যদিকে একই ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের প্রচারণার মাঠে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন

বাছাইকৃত সংবাদ