কাপেং-এর জরিপে আদিবাসীদের দারিদ্রের হার পাহাড়ে ৬৫%, সমতলে ৮০

image

প্রকাশ: ২০১৯/০৫/১৬ ০২:৪২

দেশের পাহাড় সমতলের আদিবাসীদের গড় দারিদ্রের হার ৬৫% : ৮০ বলে উঠে এসেছে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশনের একটি জরিপে। জরিপে বলা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ এবং সমতলের ৮০ শতাংশ এখনও দারিদ্রসীমার নিচে রয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী দেশের দারিদ্র সীমার হার ২১.৮ শতাংশ।

বুধবার রাজধানীর ডেইলী স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ‘আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভূক্তিমূলক বাজেট চাই’ শিরোনাম সংবলিত গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গড় আয় জাতীয় গড় আয় থেকে ২৬ শতাংশ, সমতলে ৪১ শতাংশ কম। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৭২ শতাংশ ও সমতলে ৮০ শতাংশ কৃষি নির্ভর জীবনযাপন করে।

ফাউন্ডেশনটির জরিপে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কৃষি জীবন, গড় আয়ের দিকটিও উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে ৯০ শতাংশ আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা ছিল; প্রত্যেকের গড়ে ৩.২  একরের মতো জমি ছিল। গত তিন দশকে এদের ২৫ শতাংশ ভূমি হারিয়েছেন। সমতলে বসবাসরত দুই-তৃতীয়াংশ আদিবাসী এখন ভূমিহীন।

জরিপ বলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে  বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) নামে যে প্রকল্প সুবিধা চালু আছে, সে সম্পর্কে সমতলের মাত্র ৫ শতাংশ আদিবাসী জানেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫৪ শতাংশ, সমতলে ৬২ শতাংশ আদিবাসী সাধারণত মহাজনদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ নেয়।

সভায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে ১৩০৯ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তার সবটুকু কেবল পাহাড়ে বসবাসরত ১৪ শতাংশ আদিবাসীদের জন্য ব্যয় হয় না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার তৈরী হয়।

জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের অধিকার সুনিশ্চিকরণের লক্ষ্যে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করে কাপেং ফাউন্ডেশন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান  মেনন, এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ, ব্যুরো অব ইকোনমকিস রিসার্চ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক সোহেল চন্দ্র হাজং সভার শুরুতে আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন

বাছাইকৃত সংবাদ