পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট, নিন জীবনমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি

image
ছড়ার ধার থেকে পানি সংগ্রহ করছেন এক পাহাড়ি নারী। ছবি : সংগৃহীত

প্রকাশ: ২০২১/০৪/২৭ ০১:৩৩

তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এরফলে সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা চরম মানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা পানির চরম কষ্টে অনন্যোপায় হয়ে বেঁচে থাকার জন্য গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চিন্তা করছেন। পাহাড়ের দুর্বিষহ মানবিক দুর্যোগ যেন দেখার কেউ নেই।

দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোর বাসিন্দারা মূলত সুপেয় পানি বা খাবার পানির জন্য প্রাকৃতিক ছড়া, ঝর্ণা বা কুয়োর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেগুলোও এখন শুকিয়ে গেছে। অনেকেই মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন, এতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হচ্ছে।

প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ি ছড়া বা ঝর্ণার পানি পেতে ছড়ার আশেপাশে পানির উৎস ধরে রাখে এমন কতকগুলো গাছ, পাথর রাখতে হয়; সেগুলো কেটে সরিয়ে ফেলায় পানির উৎস শুকিয়ে গেছে। অথচ পাহাড়িদের ভাষ্যমতে, বিগত বিশ কি ত্রিশ বছর আগেও পাহাড়ে পানির জন্য এমন হাহাকার হতো না। তবে কেন তৈরী হল এমন সংকট?

পাহাড়ে পানির এই সংকট একদিনে তৈরী হয়নি। এজন্য সরকারের ভূ-প্রকৃতি বিরোধী উন্নয়ন যেমন দায়ী তেমনি নির্বিচারে বন উজাড়, বৃক্ষ নিধন, মানুষের অসচেতনতা সমানভাবে দায়ী। পাহাড়ে জনসংখ্যার চাপ এবং তা সামাল দিতে পার্বত্য ভূ-প্রকৃতি বিরোধী উন্নয়ন করতে গিয়ে পানিকে গুরুত্বের মধ্যে রাখা হয়নি। ফলাফল হিসেবে তৈরী হয়েছে আজকের পানির সংকট।

তাছাড়া পাহাড়ের কোণায় কোণায় তৈরী করা বিভিন্ন বিনোদন পার্ক, পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ফেলে দেয়া ময়লা আবর্জনায় ছড়ার পানি দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানি পান করে পাহাড়িরা নানা রোগে ভুগছেন। প্রতিবছর পানিবাহিত রোগে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবুও এ বিষয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

পাহাড় ক্রমশ পানির উৎস হারাচ্ছে। গাছপালা না থাকলে পাহাড়ে পানি পাওয়া যাবে না। বন ধ্বংস থামানো দরকার। জীবনের প্রয়োজনেই পানির সংকট নিরসন করতে হবে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে জীবনমুখী উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি পাহাড়ের ভৌগোলিক বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের মাথায় রাখতে হবে। -সম্পাদকীয়

শেয়ার করুন

কমেন্টবক্স

আপনিও স্ব মতামত দিন