চা শ্রমিকদের মজুরি ৬৭০ টাকা করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারী), চা শ্রমিক সংঘ সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর দাবিনামা সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন চা শ্রমিক সংঘের নেতা প্রদীপ ব্যানার্জী, সুবেল মুন্ডা, কিরণ বিমল, জয় মুন্ডা, সুশীল মুন্ডা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরুজ আলী প্রমুখ।

১৮টি দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এগুলো-

১. চা শ্রমিকদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও উৎপাদনে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে বর্তমান বাজার দরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে চা শ্রমিকদের দৈনিক ন্যুনতম মজুরি ৬৭০ টাকা নির্ধারণ,

২. সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদান,

৩. বেআইনী শর্ত বাতিল করে বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) এর অধ্যাবধি এর ১০৩ (গ) ধারা অনুযায়ী বিনা শর্তে মজুরি প্রদান,

৪. কর্মে উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে উৎসব বোনাসের নামে উৎসাহ বোনাস দিয়ে শ্রমিক ঠকানোর অপকৌশল বন্ধ করে সকল শ্রমিককে এক মাসের মজুরি সমপরিমাণ বছরে দুটি উৎসব বোনাস ও একটি উৎসাহ বোনাস প্রদান,

৫. চা শিল্পে শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন,

৬. বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২৩৪ ধারা মোতাবেক কোম্পানীর লভ্যাংশের ৫ ভাগ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল ও অংশগ্রহণ তহবিলে প্রদান এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সহ সংগঠন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,

৭. চা শিল্পের নৈমিত্তিক ছুটি (বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি (প্রতি ২২ দিনে ১ দিন) প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনে বৈষম্য নিরসন,

৮. ২০০৯ সালে ন্যুনতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক খসরা সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসাকর্মী ও জোগালী সরদারকে মাসিক বেতন ধার্য,

৯. এক বিঘা জমি পর্যন্ত ক্ষেতের জমির জন্য রেশন কর্তন বন্ধ করা,

১০. প্রতি ২০ পরিবারের জন্য একটি টিউবওয়েল,

১১.  গ্র্যাজুয়েটি, শ্রম আইনের ৫৯ ধারা অনুযায়ী পায়খানা নির্মাণ ইত্যাদি সুবিধা বাস্তবায়ন,

১২. চা ও রাবার শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ রেশন হিসেবে একটি পরিবারে সাপ্তাহিক প্রয়োজনের অনুপাতে চাল, টাকা, ডাল, তেল, চিনি, গুড়, সাবান, চাপাতা, কেরোসিন প্রদান,

১৩. চা বাগানে বসবাসকারী চা শ্রমিকদের ভোগ দখলকৃত ভূমির উপর সত্য অধিকার প্রদান,

১৪. সরকারি আইন মোতাবেক মাতৃত্বকালীন ভাতা ৬ মাস,

১৫. প্রত্যেক চা বাগানে এম্বুলেন্স প্রদান সহ ১জন এমবিবিএস ও ১ জন এমবিবিএস (প্রস্যুতি বিশেষজ্ঞ) ডাক্তার, প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ করে চা শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবনের জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা সহ চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষার জন্য সকল বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রতি ভ্যালীতে সরকারি কলেজিয়েট স্কুল স্থাপন,

১৬. ভারতে বিনা শুল্কে বা কম শুল্কে চা রপ্তানী এবং শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্র ব্যবহারের প্রস্তাব গ্রহণ না করা।

১৭. নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে ত্রিপুরা রাজ্যে চা বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ আইনগতভাবে বন্ধ করার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ,

১৮. অবিলম্বে সিলেটে স্থানীয় শ্রম আদালতের কার্যক্রম চালু করে সকল শ্রমিকদের দায়েরকৃত মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here