মাইকেল চাকমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিখোঁজের ১১ দিন বাদেও পাহাড়ি নেতা মাইকেল চাকমার খোঁজ মেলেনি। গত ৯ এপ্রিল থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়ি আদিবাসীদের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর অন্যতম সংগঠক এবং সহযোগী সংগঠন শ্রমজীবী ফ্রন্ট (ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং টিমের সদস্য এবং জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদেরও একজন সক্রিয় সংগঠক।

এদিকে মাইকেল চাকমার সন্ধান দাবিতে আজ শনিবার, ২০ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চার সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমজীবী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় সাংগঠনিক কাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকে মাইকেল চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ১৬ এপ্রিল, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও এখনো মাইকেল চাকমার কোন খোঁজ না পাওয়ায় তাঁর জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক মহলে মাইকেল চাকমা একজন পরিচিত নেতা, প্রতিবাদী মানুষ। তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্দ করে দিতেই তাকে তুলে নেয়া হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য সমতলও যে নিরাপদ নয় তা মাইকেল চাকমার নিখোঁজের হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল। এ ঘটনা কেবল পাহাড়ের জন্য নয়, সমতলের গণতান্ত্রিক মুক্তমনা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির জন্যও অশনি সংকেত। নেতারা বলেন, আমরা আরো মনে করি মানুষের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক ও মুক্তমত চর্চার স্বার্থে মাইকেল চাকমার সন্ধানের জন্য মানবাধিকার সংগঠন, মিডিয়া ও গণতান্ত্রিক শক্তির সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- ১. অবিলম্বে মাইকেল চাকমার সন্ধান দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে; ২. রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খুন-গুম-অপহরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে; ৩. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে মুক্তমত চর্চা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং ৪. পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় ধরপাকড়-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনয়ন চাকমা ও মাইকেল চাকমার বড় বোন সুভদ্রা চাকমা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here