কালিদাস রায়: সিরাজগঞ্জে আদিবাসীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহার, জগদিশ্বরী মন্দিরের বেদখল হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া সহ ১০ দফা পূরণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ উল্লাপাড়া কমিটির আয়োজনে  এ কর্মসূচি পালিত হয়।

আদিবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চৈত্রহাটি জগদিশ্বরী মাতার মন্দিরের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি স্থানীয় ভূমিগ্রাসী চক্র গ্রাস করেছে। অন্যদিকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে ভূমিগ্রাসীরা স্থানীয় আদিবাসীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভূমিগ্রাসীদের হামলায় আহত অলকেস মুন্ডা মৃত্যুবরণ করেছেন।

সকালে বিক্ষোভ সমাবেশকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সামনে মুক্তির সোপান এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার হাজার আদিবাসীরা অবস্থান নেন। পরে সেখানে সংগঠনটির উপজেলা কমিটির সভাপতি সুশীল মাহাতোর সভাপতিত্বে এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাধারণ সম্পাদক সবিন চন্দ্র মুন্ডা, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, ওয়াকার্স পার্টি জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বাসদের জেলা শাখার আহ্বায়ক নব কুমার দাস, আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নবদ্বীপ লাকড়া, সাধারণ সম্পাদক নরেন পাহান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কালিদাস রায়, পাবনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আশিক বানিয়াস, কেন্দ্রীয় সদস্য বিভূতিভূষণ মাহাতো, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, জমি শেষ হওয়ার পরে কমিশন গঠন করে লাভ নেই। আদিবাসীরা এখনও সরকারের দেওয়া আশ্বাসে বিশ্বাস হারায়নি। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক ভূমি কমিশন সহ ১০ দফা দাবি সরকারকে মেনে নিতে হবে। আদিবাসীদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহার, মন্দিরের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়ে আদিবাসীদের প্রতি সুবিচার করা হোক।

আদিবাসী নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আদিবাসীরা যেকোন মূল্যে তাদের অস্তিত্ব, অধিকার রক্ষা করবে। দাবি পূরণ না হলে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।

সমাবেশ শেষে আদিবাসীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে রওনা হলে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে রাস্তার উপরে অবস্থান নিয়েই আদিবাসীরা বিক্ষোভ করেন। পরে আদিবাসীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here