আস্কি রংদী

অথচ আমিও একদিন মানুষ হয়ে
সৃষ্টির সেরা খেতাব নিয়ে
জন্মেছিলাম মানুষেরই পৃথিবীতে;
আমারও ছিল মাতৃগর্ভ
জন্মলগ্নে নগ্নদেহ
দেহের ভিতরে লোহিত খুন
ক্রন্দন সুরে মানবীয় গুণ
অশ্রু নদীতে নোনতা স্বাদটুকুন।
উপর্যুক্ত প্রমাণসমেত
উচ্চ নিনাদে আওয়াজ তুলেছিলাম-
“আমিও হোমো স্যাপিয়েন্স অন্তর্ভূক্ত একজন।”
তোমরা তৎক্ষণাৎ কপাল কুঁচকে ভ্রুকুটি উঁচিয়ে
আমার লজ্জাস্থান নিরীক্ষণ করে বললে:
“খামোশ! তুমি মানুষ বটে, তবে মেয়ে মানুষ।”

মেয়ে মানুষ?
আমি দৌঁড়ে দাঁড়াই আরশি সমুখে,
দৃষ্টি জুড়ে এক সমুদ্দুর কৌতূহল।
সেই কৌতূহলের ক্ষুন্নিবৃত্তিতে
চিরুনি অভিযান চালাই
সমতল দর্পণের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে।
এমন তো নয় যে এই প্রথমবার!
আগেও দাঁড়িয়েছি, খুঁজেছি, পেয়েছি, জেনেছি
নিখুঁত প্রতিবিম্বে মানুষেরই রূপ নিরঙ্কুশ অনিবার।

এরপর ধীরে ধীরে-
আমার মুকুরবন্দী উজ্জ্বল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি
শেষরাতের সলতের মতো
অনভিপ্রেতে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসে।
এবং নিভে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে
পরকলার মসৃণ তলে স্পষ্টত দৃশ্যমান হয়
একটি আপাদমস্তক নগ্ন শরীর;
গড়াগড়ি খায়, মেঝে লুটোপুটি খায়
গোঙায়, সে কোঁকায়, সে কাতরায়:
“আব্বা গো, তোর আল্লার দোহাই!
আমারে ছাড়ি দেও।
আমি বাঁচবার চাই।”
সেই গোঙানোর ভাষায়
সেই কোঁকানোর ভাষায়
সেই কাতরানোর ভাষায়
স্বরতন্ত্রী উৎসারিত মেয়েলি কন্ঠস্বর অপেক্ষা মনুষ্যোচ্চারিত আর্তনাদের বুলি আরও ভীষণ প্রখর,
অথচ তোমরা আমাকে-
নিছক এক মেয়ে মানুষই ভেবেছিলে জীবনভর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here