পরেশ চন্দ্র মৃ। ছবি: ফেইসবুক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্প আয়োজনে মধুপুরের গারো রাজা হিসেবে পরিচিত পরেশ চন্দ্র মৃ-কে স্বরণ করা হয়েছে। রোববার (৭ মার্চ), তাঁর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে টাঙ্গাইল মধুপুর উপজেলার চুনিয়া গ্রামে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ ও পরিববার মিলিতভাবে এ স্বরণসভার আয়োজন করে।

এর আগে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), এসিডিএফ, কোচ আদিবাসী সংগঠন, গাসু, জিএসএফ’সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন পরেশ চন্দ্র মৃ’র কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে আলোচনা সভা হয়।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি অজয় মৃ, ফাদার লরেন্স রিবেরিও সিএসসি, শিক্ষক এপ্রিল পৌল মৃ, বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জন যেত্রা, মধুপুর কোচ আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌড়াঙ্গ বর্মন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরেশ চন্দ্র মৃ ১৯২৯ সালে চুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মধুপুরের আদিবাসী অধিকার রক্ষার আপোষহীন সংগ্রামী। তিনি ১৯৬২ সালে আদিবাসী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে জোরদার করার জন্য গঠন করেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ। এই সংগঠনের মাধ্যমেই তিনি মধুপুরের আদিবাসীদের সংগঠিত করেন এবং জোটবদ্ধ সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মধুপুরের গারোরা তাকে রাজা হিসেবে সম্মানিত করেছে।

বন, বনবাসীর মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে পরেশ চন্দ্র মৃ’র ‘আমরা বনের সন্তান। বনে আমাদের জন্ম। বনেই আমরা বেড়ে উঠেছি। এই বনজীবনে আমরা এতটাই অভ্যস্ত যে, এই গ্রাম এবং এই বন ছেড়ে আমরা কোথাও যাবো না। এখান থেকে উচ্ছেদ করলে আমরা বাঁচতে পারবোনা। কারণ বন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারবো না’ উক্তি আদিবাসীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।

১৯৯৮ সালের ৭ মার্চ হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াকু এই নেতা মৃত্যুবরণ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here