ছবি: একুশে টিভি

বান্দরবান লামা উপজেলার দরিদ্র ২৪ আদিবাসী পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঘর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এসব প্রতি ঘর নির্মাণে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩৮ টাকা করে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৭১২ টাকা। বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একুশে টিভির খবর।

জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক সুপারিশকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী গৃহ নির্মাণের স্থান নির্বাচন ও জমি পরিদর্শনের কাজ শেষে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত ২০টি ঘরের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে বাকি ৪টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

ঘরপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের তেলুনিয়া পাড়ার মমংশে মার্মা, চিউনী কাঠতলি পাড়ার গুনা চরণ ত্রিপুরা, সরই ইউনিয়নের টংগঝিরি পাড়ার চন্দ্রমান ত্রিপুরা, ক্যয়াজুপাড়ার চন্দ্রজন ত্রিপুরা, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী নয়াপাড়ার আছিংমে মার্মা, বৈদ্য ভিটা পাড়ার আলুংমে মার্মা, চামং উ মার্মা, ফাইতং ইউনিয়নের রোয়াজাপাড়ার উশৈইমং মার্মা, মংচিন্তা মেম্বার পাড়ার মাছিং মার্মা, হেডম্যান পাড়ার মং নুচিং মার্মা, পৌরসভা এলাকার শীলেরতুয়া পাড়ার মং চাচিং মার্মা ও বড় নুনারবিল পাড়ার থোয়াই চাহ্লা মার্মা।

এছাড়াও গজালিয়া ইউনিয়নের আকিরাম পাড়ার বিশাইরুং ত্রিপুরা, হেডম্যান পাড়ার উস্রাচিং মার্মা, গাইন্ধা পাড়ার এসাইনু মার্মা, চিন্তাবর পাড়ার তংইয়া মুরুং, লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা পাড়ার হ্লাঅং প্রু মার্মা, মাএনু মার্মা, উস্রাচিং মার্মা, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড় পাড়ার উমে মার্মানী, ক্যচিং পাড়ার ইয়াসানু মার্মা, রাজা পাড়ার চ্যংপাত স্রে, কাঠালছড়া ত্রিপুরা পাড়ার চন্ডি চরণ ত্রিপুরাও ঘর পেলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে উপকারভোগীরা বেশ খুশি বলে জানিয়েছেন রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লামা উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিশেষ ডিজাইনের ২০টি ঘরের কাজ ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে বাকি ৪টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যে ঝিরি ও নদীর পানি কমে গেলে কাজ শুরু করা হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি রেজা রশীদ বলেন, যারা ঘর পাচ্ছেন তারা একেবারেই হতদরিদ্র। তারা এক সময় বেড়ার ঘরে জরাজীর্ণ জীবনযাপন করতেন। আশা করি আগামী দু’এক মাসের মধ্যেই উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে উঠতে পারবেন। ঘর পাওয়ার পর অনেকটাই ভালোভাবে থাকতে পারবেন তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here