স্টাফ রিপোর্টার: বান্দরবান লামা উপজেলার হেব্রম মিশনে নবম শ্রেণী পড়ুয়া ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের দায় পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং মারমাকে নিতে হবে। কেননা এ ধর্ষণ মন্ত্রীর অংশগ্রহণকৃত একটি অনুষ্ঠানের পাশে ঘটেছে এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কর্তৃক এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা শুধু যৌনতার জন্য নারীদেরকে ধর্ষণ করেনি। তারা ধর্ষণ করেছিল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে। ধর্ষণের মাধ্যমে পুরো জাতির মনোবল ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাহাড়েও একই কারণে আদিবাসী নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।’

নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, ‘বর্তমানে আদিবাসী নারী ও নারী সমাজের উপর সহিংসতা উল্লেখ্যযোগ্যহারে বেড়েছে। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে সেটেলার বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা পাহাড়ি নারী যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এর অবসান জরুরী।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহেনা ইউনুস বলেন, ‘কন্যা সন্তানদের নিরাপদে রাখা এখন উদ্বেগের বিষয়। সংবিধান সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলে কিন্তু কথার প্রতিফলন বাস্তব ক্ষেত্রে নেই। প্রতিনিয়ত ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে কিন্তু সেই দাবিগুলো কোথায় যাচ্ছে?’ সরকার ধর্ষককে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক ফাল্গুনী ত্রিপুরা তাঁর বক্তব্যে লামার ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণসহ সারাদেশে আদিবাসী নারীর প্রতি চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার শিকার পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আদিবাসী নারীসহ নারীর প্রতি সকল ধরণের নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্বত্য নারীদের সকল ধরণের নির্যাতনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে একটি বিশেষ সেল গঠন ও অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর খোকন সুইটেন মুর্মু, মানবাধিকারকর্মী মাহবুব আলম, আদিবাসী নেত্রী মনিরা ত্রিপুরা, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নিপণ ত্রিপুরা প্রমুখ। বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক, নারী প্রগতি সংঘ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here