নাইরৌং ত্রিপুরা

জনজাতির কন্ঠ ডেস্ক: বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আদিবাসী কিশোরী নাইরৌং ত্রিপুরা (১২) এবার অস্টেলিয়ার ক্যানবেরা রাজ্য সরকারের ইয়ং ক্যানবেরা সিটিজেন অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। গত ১লা এপ্রিল ক্যানবেরায় উপ মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী ইযেভেটভেরী নাইরৌংকে ইয়ং এচিভার এওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে এ সন্মাননা তুলে দেন।

ক্যানবেরা রাজ্য সরকার প্রতি বছর ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের পরিবেশ রক্ষা, শিল্পকলা, সমাজকর্ম ও স্বেচ্ছাসেবা সহ ৭টি বিভাগে ইয়ং ক্যানবেরা সিটিজেন অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার দিয়ে থাকে। এই পুরস্কারগুলোর মধ্যে ‘ইয়ং এচিভার’ বিভাগে নাইরৌং ত্রিপুরা এ পুরস্কার পেয়েছেন।

অভিলাষ ত্রিপুরা ও রাজেশ্বরী রোয়াজার দুই সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠ্য কন্যা নাইরৌং ত্রিপুরা। তাদের আদি নিবাস পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াপুর হাদুকপাড়া এলাকায়। সে বর্তমানে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আদিবাসী এই কিশোরী গত কয়েক বছরে গরীব ও এতিম শিশুদের জন্য চ্যারিটি কাজ, পরিবেশ রক্ষা, মানবাধিকার ও মাল্টিকালচাররিজম প্রমোট করতে কমিউনিটি ওয়ার্কে অংশ নেন। এছাড়াও সর্বশেষ ২০১৯ সালে দাবানলে জীবন ও মালামাল রক্ষাকারী অগ্নি নির্বাপকদের জন্য ফান্ড রেইসিং এর কাজ করেন। এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এ পুরস্কারে ভূষিত হন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে নাইরৌং ত্রিপুরার জনসেবামূলক কাজের জন্য সেখানকার মন্ত্রী ও আয়োজকেরা ভূয়সী প্রশংসা করেন। ১৪ জন পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে নাইরৌং ত্রিপুরা সর্বকনিষ্ঠ।

এ বিষয়ে নাইরৌং ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও আপনজনদের সমস্যাশঙ্কুল অবস্থা দেখে এসেছি। এখানে (অস্ট্রেলিয়া) আসার পর সবকিছুই নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে; এখন আমি যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, আমি তা আমার চারপাশের সব মানুষের জন্য কাজে লাগাতে চাই।

মা রাজেশ্বরী রোয়াজা অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, মা হিসেবে আমার ১২ বছরের কন্যা আমাকে এমন অসাধারণ আনন্দ ও গর্ব এনে দিয়েছে! একজন মা হিসেবে এর চেয়ে আর কিছু পাওয়ার থাকতে পারেনা। গর্ববোধ করেন তাঁর বাবা অভিলাষ ত্রিপুরাও।

ভবিষ্যত লক্ষ্য সম্পর্কে নাইরৌং বলেন, আমার অনেক বড় একটা স্বপ্ন আছে, আর আমি তা বাস্তবায়িত করতে চাই। আমি কমিউনিটিকে সেবা করার মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে যেতে চাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here