সম্পাদকীয়

গত ৪ এপ্রিল ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকাশিত ফলাফলে আদিবাসী কোটায় (বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত উপজাতি) অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায় প্রান্তিক আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

অথচ মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে কোটার আসন বণ্টন বিষয়ে উল্লেখ করা রয়েছে। আদিবাসী (উপজাতীয়) ও পার্বত্য তিন জেলার অ-আদিবাসী কোটায় মোট ৩৩টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে পার্বত্য তিন জেলার আদিবাসীদের জন্য ৯টি, পার্বত্য তিন জেলার অ-আদিবাসীদের জন্য ৩টি, অন্যান্য জেলার আদিবাসীদের জন্য ৮টি এবং রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তির ১৩ নং অনুচ্ছেদের ৩ ও ৪ নং সারণিতে আদিবাসী কোটা সমূহের আসন বণ্টন বিষয়ে নির্দেশনা আছে। ৪ নং সারণি অনুযায়ী ৭১ কোড হল রাঙামাটির আদিবাসী, ৭২ কোড হল রাঙামাটির অ-আদিবাসী, ৭৩ কোড খাগড়াছড়ির আদিবাসী, ৭৪ কোড খাগড়াছড়ির অ-আদিবাসী, ৭৫ কোড বান্দরবানের আদিবাসী, ৭৬ কোড বান্দরবানের অ-আদিবাসী এবং ৭৭ কোড হল পার্বত্য ব্যতীত অন্যান্য আদিবাসী শিক্ষার্থীদের।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ফলাফল অনুসারে, কোড ৭১ এ রাঙামাটি জেলার আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেখানে একজন অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অনুরূপ কোড ৭২, ৭৪ এবং ৭৬ এ তিন পার্বত্য জেলার অ-আদিবাসীদের জন্য মোট ৩টি আসন বরাদ্দ থাকলেও সেখানে মোট ছয়জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। কোড ৭৭ এ সমতলের আদিবাসী (তিন পাবর্ত্য ব্যতীত) শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি আসন বরাদ্দ; এখানেও পাঁচজন অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেয়ায় আদিবাসী শিক্ষার্থীরা কেবল বঞ্চিতই হচ্ছে না এরমধ্য দিয়ে কেড়ে নেয়া হচ্ছে তাদের অধিকার; সরকারের নির্দেশনা অমান্য করার মধ্য দিয়ে ধূলিসাৎ করা হচ্ছে প্রান্তিক মানুষদের এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন।

আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দেশের চিকিৎসা সেবায় যুক্ত করতে সরকার যে কোটা ব্যবস্থার তবিয়ত বহাল রেখেছে সেটির যথার্থ প্রয়োগ জরুরি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। -সম্পাদকীয়

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here