নগর প্রতিবেদক, জনজাতির কন্ঠ: বিকেল বেজে ৩টা। রাজধানীর গুলশানের শিশু মালঞ্চ স্কুল মাঠ। এখানে প্রকাশনী সংস্থা থকবিরিমের আয়োজনে ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে চলছে গারো বইমেলা। বইমেলায় গতকাল একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে থকবিরিমের ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। এই দিন থকবিরিম নিজ ভাষায় স্বপ্ন ও চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাতৃভাষায় কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে ঢাকা ওয়ানগালা, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), বাংলাদেশ গারো সংঘ (বিজিও) সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে থকবিরিমের উপদেষ্টা লেখক ও কবি থিওফিল নকরেক বলেন, ‘দেশে ফেব্রুয়ারীতে বইমেলা না হলেও গারো বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। গারোদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাইলে আরও লেখালেখি প্রয়োজন। গারোদের ইতিহাস ৭ হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস। সেই ইতিহাস গুলো বাংলা ভাষার পাশাপাশি গারো লেখকদের নিজ ভাষাতেও লেখা দরকার।’

কাপেং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা উজ্জ্বল আজিম বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক ভাষা হারিয়ে গেছে। গারো ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে হলে গারোদের উচিত নিজ ভাষায় কথা বলা, নিজ ভাষার চর্চা করা।’ চর্চা না করলে গারো ভাষাও হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই এনজিও কর্মকর্তা।

অনেকেই বলেন গারোদের বর্ণমালা নেই কিন্তু এটি অসত্য বাক্য। গারোদের বর্ণমালা আছে বলে জানালেন লেখক ও গবেষক বাধঁন আরেং।

শহরে বসবাসকারী গারোদের নিজ ভাষায় কথা বলা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ঢাকা ওয়ানগালার নকমা শুভজিৎ সাংমা।

নিজস্ব শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার, মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চায় আগ্রহ তৈরী, শিল্প-সাহিত্যে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধকরণ, গারো লেখকদের সাথে ভিন্ন ভাষাভাষী লেখকদের ভাবনা বিনিময় ও নিজস্ব সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে গারো বইমেলার আয়োজন করেছে থকবিরিম। অনুষ্ঠানে মাতৃভাষায় স্বপ্ন ও চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন থকবিরিম কর্ণধার কবি মিঠুন রাকসাম।

মেলায় কবি কেনুস সম্রাট ম্রংয়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ওয়ানগালা হানচিংনি ওয়ানগালা’, সুমনা চিসিমের ‘আফ্রিকা ভ্রমণের কাহিনী’ ও ‘গারো লোককাহিনী’, ফাদার গৌরব জি. পাথাংয়ের ‘দূর থেকে ভালোবেসে যাবো’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়।

এছাড়াও গারো তরুণ কবিরা মাতৃভাষায় কবিতা পাঠ করেন। কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভার মাঝে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here