মাইকেল চাকমা
মাইকেল চাকমা। ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়িদের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর অন্যতম সংগঠক এবং সহযোগী সংগঠন শ্রমজীবী ফ্রন্ট (ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা নিখোঁজের দুই বছর পূর্ণ হল আজ। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল থেকে তাঁর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তাঁর দল ইউপিডিএফ-এর দাবি ওইদিন বিকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় সাংগঠনিক কাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকে মাইকেল চাকমা নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ওই বছরের ১৬ এপ্রিল, জেলার সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এতোদিনেও কোন খোঁজ না পাওয়ায় তাঁর জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা পরিবারের।

তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং টিমের সদস্য এবং জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদেরও একজন সক্রিয় সংগঠক। পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক মহলে মাইকেল চাকমা একজন পরিচিত নেতা, প্রতিবাদী মানুষ। তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্দ করে দিতেই তাকে তুলে নেয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন নিখোঁজ এই নেতার সন্ধান দাবি করে মিটিং, মিছিল, সমাবেশ করেছে। তাঁরা অবিলম্বে মাইকেল চাকমাকে সুস্থ শরীরে ও নিরাপদে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া, খুন-গুম-ক্রসফায়ার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় ধরপাকড় ও নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে পাহাড়ের তরুণ কবি ও লেখক অং মারমা বলেন, মাইকেল চাকমা অপহরণের আজ দুই বছর পূর্ণ হলো। রাষ্ট্রের এমন অবহেলাপূর্ণ দ্বায়িত্ব ও অসযোগীতায় প্রমাণ করে মাইকেল চাকমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে তার হাত আছে। এ দায় রাষ্ট্র কখনোই এড়াতে পারে না। অবিলম্বে মাইকেল চাকমার সন্ধান চাই, ফিরিয়ে দাও পাহাড়ের এই বীর সন্তানকে।

এদিকে নিখোঁজ মাইকেল চাকমার সন্ধানের দাবিতে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে  ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here