স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের মধুপুরে তথাকথিত জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণার নামে স্থানীয় আদিবাসীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ-ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বনবিভাগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় উপজেলার আনারস চত্ত্বরে প্রায় পাঁচ শতাধিক আদিবাসী, অ-আদিবাসী নারী পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

এসময় আদিবাসীরা ‘খা সাংমা, খা মারাক’, ‘আমার ভূমি আমার মা, কাইড়া নিতে দেব না’, ‘বন বিভাগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘পীরেনের রক্ত বৃথা যেতে দিবোনা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

মধুপুর গড়াঞ্চলের সংক্ষুব্ধ আদিবাসী জনগনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জন যেত্রা ও সভাপতিত্ব করেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক।

সমাবেশে গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ইব্রিয় মানখিন বলেন, ‘২০০৪ সালে মধুপুর ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনে পীরেন স্নালকে বনবিভাগ ও তাদের দোসরেরা গুলি ছোড়ে হত্যা করে। তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আরোহনের পরও আদিবাসীরা ভূমির অধিকার পেল না। কবে পাবে?’ এমন তির্যক প্রশ্ন গাসুর এই নেতার।

গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের (জিএসএফ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল বলেন, ‘করোনার সময়েও শাল-অরণ্যে বসবাস করা আদিবাসীদের পাবলিক প্লেসে এসে প্রতিবাদ মিছিল, গণ-অবস্থান নিতে হয়। এই কর্মসূচি শাল অরণ্য রক্ষার আন্দোলন, শত ত্যাগেও এই আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’

সংরক্ষিত বনভূমির নামে আদিবাসী উচ্ছেদ আতঙ্কের অবসান না করলে আগামী দিনে কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ার বার্তা উচ্চারণ করেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিংকন দিব্রা।

মধুপুরের অরণ্য জুড়ে আদিবাসীরা বসবাস করে। এবং একে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলা হয়। ভোটের সময় আওয়ামী লীগ আদিবাসী মানুষের পাশে ঘেঁষে কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরল আদিবাসীদের ভুলে যায়; প্রতারণা করে বলে সরাসরি অভিযোগ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সম্পাদক অলিক মৃ’র। মধুপুরের আদিবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই ছাত্র নেতা।

আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং সংহতি বক্তব্যে জানান, বন বিভাগ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোশাক পরিধান করে বন রক্ষার নামে মধুপুরের আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে আসে। কিন্তু আদিবাসীরা আছে বলেই এখনো মধুপুরে বন দেখতে পাওয়া যায়। বন বন বিভাগের হাতে গেলে এইসব বন আর দেখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বন বিভাগ, বন আইন তৈরীর আগে থেকেই মধুপুরে আদিবাসীরা বসবাস করে আসছে। যার প্রমাণ ভুটিয়ার প্রাইমারী স্কুল ও বেরীবাইদের প্রাইমারী স্কুল। ১৯১৫ সালে ভুটিয়ার স্কুল নির্মাণ হয়। অতীতে দেখা গেছে, মধুপুরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বন বিভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা বন ধ্বংস করে আদিবাসীদের উপর দোষ চাপিয়েছে। যেটা অন্যায়। আদিবাসীরা বন ধ্বংস করে না বরং রক্ষা করে জোর গলায় বলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অজয় মৃ।

পরে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আদিবাসীরা মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here