নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মধুপুরে জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনভূমির নামে স্থানীয় আদিবাসীদের নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার জলছত্র ফুটবল মাঠে এ সমাবেশ হয়। এতে ‘আমার ভূমি আমার মা- কাইরা নিতে দিব না’ শ্লোগানে মধুপুর গড়াঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেয়।

বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জন জেত্রার সঞ্চালনায় ও জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ, উইলিয়াম দাজেল, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, বেরীবাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জুলহাস উদ্দিন, শোলাকুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, ফুলবাগচালা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু সহ অন্যান্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।

বর্ষীয়ান আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ বলেন, ‘বনবিভাগ হওয়ার আগ থেকেই মধুপুর বনে আদিবাসীরা বসবাস করছেন। সুতরাং আলোচনা ছাড়াই আদিবাসীদের উচ্ছেদ নোটিশ দিয়ে যে নীল নকশা করছে আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’

আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, ২০০৪ সালে ইকোপার্কের নামে আদিবাসী উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে পীরেন স্নাল নিহত হয়। এখন পর্যন্ত আমরা পীরেন হত্যার বিচার পাইনি। বরং গড়াঞ্চলের নিরীহ আদিবাসীদের নামে শতশত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

আদিবাসী এই ছাত্র নেতা অবিলম্বে পীরেন হত্যার বিচার দাবি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিন নকরেক বলেন, ‘মধুপুরে শতশত বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করে আসছে। কিন্তু বনবিভাগ কয়দিন পরপর আদিবাসীদের নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করার নোটিশ প্রদান করে। আমরা মধুপুরের জনগণ বনবিভাগ কর্তৃক তথাকথিত উচ্ছেদ নোটিশ মানি না।’

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। আদিবাসীদের ভূমি সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে এরচেয়েও কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here