-পিসিপি

স্টাফ রিপোর্টার: চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নিয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে প্রতারণা এবং তাদের বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদ মিথ্যাচার করেছে। বুধবার (২৫ নভেম্বর), পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি এ অভিযোগ করে।

একইসাথে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ শান্তিচুক্তি ও জুম্ম স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তোপ দেগেছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠন।

এরআগে গত ২২ নভেম্বর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্ল্যা এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “তর্কিত জমিটি (নাইতং পাহাড়) লামা উপজেলাধীন ৩০২ নং লুলেইন মৌজায় অন্তর্ভূক্ত। উক্ত জমিতে পরিষদের তত্ত্বাবধানে কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার লক্ষ্যে স্থানীয় ম্রো নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিষদের নামে বন্দোবস্তী নেয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘‘পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় পরিষদ কর্তৃক প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে না পারায় বান্দরবান সেনানিবাসের (৬৯ পদাতিক ব্রিগেড) অনুকূলে পর্যটনের জন্য ০১ জানুয়ারি ২০১৬ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০৫৫ পর্যন্ত ৪০ বছরের জন্য উক্ত জমিটি ১৮টি শর্তাবলী সাপেক্ষে লীজ প্রদান করা হয়।’’

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে পিসিপি জানায়, কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার লক্ষ্যে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে আলাপ-আলোচনাক্রমে উক্ত জমিটি পরিষদের দখলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্যে কাজে না লাগিয়ে পরিষদ হীনস্বার্থে ‘পর্যটনের জন্য’ সেনাবাহিনীর নিকট ৪০ বছরের মেয়াদে লীজ দেয়া হয়েছে। জমিটি দখলে নেয়ার পর পার্বত্য জেলা পরিষদ ‘কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার’ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে, আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য ক্ষতিকারক, আদিবাসী জুম্ম জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির জন্য ধ্বংসাত্মক, জুম্ম জনগণের প্রথাগত ভূমি অধিকার পরিপন্থী তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও চুক্তি মোতাবেক প্রণীত পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও পর্যটনের জন্য সেনাবাহিনীকে লীজ দেয়া নিঃসন্দেহে ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে প্রতারণার শামিল। আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠী, জুম্ম জনগণ ও দেশের মানবতাবাদী ব্যক্তিবর্গসহ পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তা কখনোই মেনে নিতে পারে না।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি চারটি ম্রো আদিবাসীদের পাড়া উচ্ছেদ করে নাইতং পাহাড়ের ২০ একরের বাইরে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে দোলা পাড়াবাসীর বাগান ও চাষের ভূমি, কাপ্রু পাড়ার ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক লাল পতাকা পুঁতে দিয়ে আনুমানিক ৮০০ থেকে ১০০০ একরের মত জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানায় পিসিপি।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা বলেন, ‘‘পার্বত্য জেলার আইন অনুযায়ী জেলার কার্যক্রম পরিচালনা করার এখতিয়ার থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য অঞ্চলে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম ও পরিষদের কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনার বিধান থাকলেও তিনি তা করেননি। যা সম্পূর্ণ চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম।’’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চিম্বুকের বুকে ম্রো আদিবাসীদের জায়গা দখল করে ফাইভ স্টার হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের লিজ বাতিল ও সকল প্রকার পর্যটন স্থাপনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে পিসিপি।

এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্ল্যার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here