মেয়ের সাথে বেষ্টন চিসিম। ছবি : লেখক

পরাগ রিছিল

পাঁচ বছরের জন্য ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) ভিসা নিয়ে দক্ষিন কোরিয়ায় কাজ করছেন বেষ্টন চিসিম। দক্ষিন কোরিয়ায় বর্তমানে মান্দি আছেন তিন জন। বার্নাড মানখিন, অপরাজিতা আজিম, বেষ্টন চিসিম। চাকমা আদিবাসীদের সেখানে নিজস্ব সমিতি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে সেদেশের নাগরকিত্বও লাভ করছেন। তাঁদের মধ্যে রনেল চাকমা অন্যতম। তিনি উপদেষ্টা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন, যারা এদেশ থেকে বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। কোরিয়ান ভাষার শিক্ষকও তিনি। সেদেশে বাংলাদেশী প্রবাসী আছেন প্রায় ষোল হাজারের ওপর।

দেশে থাকতে বিভিন্ন এনজিও-তে চাকুরি করেছেন বেষ্টন। সেসবের পরিক্রমা শেষে জীবনের এক অধ্যায়ে কোরিয়ানদের দ্বারা পরিচালিত এক স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে। সেখানে কিছুটা শেখা হয়েছিল কোরিয়ান ভাষা। তারপর বিষয়টা সিরিয়াসলি নেন। জানতে পারেন, কোরিয়ান  ভাষা শিখলে সেদেশে যাবার সুযোগ রয়েছে; কোরিয়ান ভাষার ওপর কোর্স নেয়া শুরু করেন। এভাবে শেষ পর্যন্ত কোরিয়ায় যাত্রা করে বেষ্টন বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্যের চাকা।

বেষ্টন সুদূর কোরিয়ার সিউলের কাছের শহর খিমফুতে থাকছেন। ইতোমধ্যে আয়ত্ব করে ফেলেছেন কোরিয়ান জীবনযাত্রা, ভাষা বলেন অনর্গল। সম্প্রতি এক মাসের ছুটিতে এসেছিলেন দেশে। দেশের বাড়িতে আছেন স্ত্রী, ১১ বছর বয়সী কন্যা চেরী এবং ৫ বছর বয়সী কন্যা পেরী। গ্রামে এসে নতুন ঘর তোলায় হাত দিয়েছেন। কন্যাদের জন্য সেদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন একগাদা উপহার সামগ্রী। স্যামসাং প্যাড, ব্ল‍ুলু টুথের গান পেয়ে কন্যা পেরী সেকি খুশি! খুশিতে আমাদের জন্যও দেখালো একটি নাচ।

বলছিলেন সে দেশের কড়া আইন কানুনের কথা। মালিকও শ্রদ্ধা করে চলেন শ্রমিকদের, যদি শ্রমিকরা লেবার ‘ল’ অনুসারে মামলা ঠুকে দেন মালিকের বিরুদ্ধে? আর কাজে মালিক শ্রমিক কোন ভেদাভেদ নেই! মালিকও শ্রমিকের সাথে কাজ করেন একই সাথে। বলছিলেন, সেদেশের উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, ট্রেনে লাইন চুরির ভয়হীন এক রাষ্ট্রের কথা, যেখানে কোথাও মোবাইল পড়ে থাকলেও কেউ নেয় না!

খুবই কাজ পাগল সে দেশের মানুষ। কাজের ক্লান্তি ভুলতে পার্টি দেন ছুটিতে বড় দূরের শহরে কনসার্ট হয়, দূর বলে তো আসলে সেখানে কিছুই নেই! ঘন্টা কয়েকের ভেতর পৌঁছানো যায় যেখানে খুশি সেখানে। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নেই, ৩০ সেকেন্ডের সিগন্যাল পড়ে ১ মিনিট, দেড় মিনিট, সর্বোচ্চ ২ মিনিট! দ্রুতগামী ট্রেন তো আছেই। প্রযুক্তির উচ্চ শেখর আর কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না তারা। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে চালানো যায় সবকিছু, বাজার-ঘাট, ভ্রমণ।

মান্দি তিন জনের সাথে কি দেখা হয়? একজনের সাথে একত্র হন সাধের ‘খারি জাবা খেতে কাজের ব্যস্ততায় আরেকজনের সাথে দেখাই হয় না!

চীন ভ্রমণ করেছেন কোরিয়া থেকে। বাংলাদেশী অনেকে আছেন সে দেশেও, ব্যাবসা করছেন চীনে। সেখানে ছিলেন বাঙালি মালিকের হোটেলে।

প্রশ্ন ছুঁড়ে দেই, আপনজন, দেশ, বন্ধু বান্ধবের জন্য কি প্রবাসে মন পোড়ে না? আবেগ প্রবণ কণ্ঠে উত্তর দেন, পোড়ে না আবার? না পুড়লে কি আসতাম? আসতে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা খরচ হলো, অনেকে আসে না আবার এ কারনে।

স্বজন, দেশ, বন্ধুরা সব সময়ই থাকে মনে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here