ফাল্গুনী স্কু
ফাল্গুনী স্কু। ছবি : ফেইসবুক।

নারী হলো তোমার সেই জননী;

যে পৃথিবী  নামক গ্রহের সাথে তোমার পরিচয় করায়;

যে নিজের সাথে নিজে লড়াই করে-

তোমাকে পৃথিবীর আলোয় সিক্ত করায়।

নারী হলো তোমার সেই সহধর্মিণী;

যার আত্মত্যাগে তুমি পাও পূর্ণতা,

তোমার চলার পথে সাহস যুগিয়ে-

যে খুন করে সকল ব্যর্থতা।

নারী হলো তোমার সেই বোন,

যে তোমার আরেক মা;

মুক্ত আকাশে যে তোমাকে ডানা মেলতে শেখায়,

অন্ধকারকে পুড়িয়ে প্রদীপের আলো জ্বালায়।

নারী এমনই অদ্ভুত সরল সুন্দর;

শক্তি গুলোকে স্বযত্নে আগলে রাখে বুকের ভেতর।

তবুও,

ভদ্রবেশী সমাজের অধিকার হন্নকারী

পুরুষ তুমি মূর্খ;

স্বাধীনতার পাশে তাই নারীর প্রতিবিম্ব-

আজও ক্ষত-বিক্ষত।

কেন এখনো জীর্ণ অশ্রুর ফোটা গুলো আঁচলের ভাজে-

কতসব অধিকারের স্বপ্ন মুক্তির মালা গাঁথে?

নারীর প্রতি কেন কর এত অবহেলা?

‘ছেলে’ ‘ছেলে’ বলে কেন কর জীবন নিয়ে

মৃত্যু-মৃত্যু খেলা?

কোন সাহসে যেখানে-সেখানে ঘরে-বাইরে,

তোমার কালো হাত নোংরা ভাবে নারীকে স্পর্শ  করে?

নারী কি শুধুই তোমার ভোগের বস্তু, খেলার পুতুল?

তোমার পৈশাচিক অন্যায় সহ্য করতে হবে মুখ বুজে?

ইতিহাসে অর্জিত “স্বাধীনতা” শব্দটি

এখনো চোখ বোলালেই নারীর সামনে হোচট  খায়;

অধিকার নামক প্রদীপটি যে আজও নিবু-নিবু প্রায়।

নেতিবাচক সমালোচনা চর্চায় প্রতিনিয়ত ঘটছে

সম্পর্কের মৃত্যু;

সভ্যতা-সংস্কৃতি চর্চা এগোলেও,

নারীরাই থমকে আাছে শুধু।

তাই আত্মহত্যা বা ভিক্ষা  করে নয়,

ভয়ে চুপসে সবকিছু সহ্য করে নয়;

নিজেদের অধিকার নিজেদেরই ছিনিয়ে আনতে হবে;

প্রতিবাদের সুর এভাবেই বদলাতে হবে।

সময় এসেছে, জেগে ওঠো নারী জেগে ওঠো,

একসাথে সকল জীর্ণতা মুছে ফেলো,

বৈষম্যের সকল শেকল ভেঙে ফেলো;

সমাজের ভণ্ড নিয়ম ভেঙে ফেলো,

সাম্যের নতুন নিয়ম গড়ো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here