স্টাফ রিপোর্টার: পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচিতে ‘নতুন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া স্থাপন’কে অবৈধ আখ্যায়িত করে নতুন পাড়া স্থাপন না করার জন্য স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের চিঠি দিয়েছে প্রশাসন। গত ২১ অক্টোবর থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আরিফুল হক মৃদুল স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সেখানে বলা হয়, ‘উপযুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত পত্রের আলোকে জানানো যাচ্ছে যে, থানচি উপজেলাধীন দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবৈধভাবে নতুন করে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া স্থাপন করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে স্থাপিত নতুন পাড়াসমূহে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ও অবস্থান করে বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে মর্মে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। এমতাবস্থায় নতুন করে অবৈধভাবে পাড়া স্থাপন বন্ধ করাসহ ইতিপূর্বে স্থাপিত চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা পাড়াসমূহে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ও অবস্থান এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ পূর্বক নিম্ন স্বাক্ষরকারীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে জুম্ম উচ্ছেদের গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন আদিবাসীরা। এ বিষয়ে ব্লগার ও অ্যাক্টিভিষ্ট পাইচিং মং মারমা বলেন, `তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম পাহাড়িরা সাপ, ব্যাং, জোঁক-খেকো জংলী। জংলী তো জঙ্গলেই থাকবে, এই জঙ্গল-ওই জঙ্গলে গিয়ে বসতি গড়বে; যেমনটা তারা আদিম পন্থায় গড়ে আসছে শত বছর ধরে। শত বছর আগে তো রাষ্ট্রও ছিলো না- যারা কারণে অকারণে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে জান-মাল কেরে নেবে। এতকাল দুর্গম জঙ্গলে গিয়ে বসতি গড়া অবৈধ ছিলো না, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিলো না, আজকাল হচ্ছে। অধুনা রাষ্ট্র আদিবাসীর স্বাভাবিক জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। জুমচাষি জুমের পাহাড়ে গিয়ে জুমঘর তুলতে পারবে না- সেটাও হয়ে যাবে সন্ত্রাস।’

সরকারিভাবে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা আদিবাসীদের ক্রিমিনালাইজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে মি: মারমা আরও বলেন, ‘একটা জনগোষ্ঠিকে ক্রিমিনালাইজ করলে ইচ্ছামত জুলুম-নিপীড়ন জায়েজ করা যায়। কাশ্মীরিরা ক্রিমিনাল, উত্তরপূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের বাসিন্দারা শুধু ক্রিনানালই নয়- তারা ক্যানিবাল, স্যাভেজ, ট্রাইব ইত্যাদি। জাত্যান্ধ বাঙালি কাশ্মীর, প্যালেস্টাইন দেখে। নিজের পৈশাচিকতায় চোখে ঠুলি এঁটে ফ্রান্স নিয়া মধ্যপ্রাচ্য নিয়া চিল্লায়! অথচ পাহাড় দেখে না।’

প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেটলার আর রোহিঙ্গারা যে হাজার হাজার একর জমি দখল করে নতুন বসতি গড়ে সেটা কি সন্ত্রাস নয়? সরকারী বন্ধুক দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আদিবাসীর মাটি কেড়ে নিলে তা কি সন্ত্রাস নয় ধর্মাবতার?।’

প্রশাসনের এমন তৎপরতার সমালোচনা করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা বলেন, ‘এটি শাসকগোষ্ঠীর গোয়াবলেসীয় কায়দায় জুম্মদের ঘর বানাতে বাধাঁর চক্রান্ত। কিন্তু পাহাড়ে সেটেলারদের জায়গা দখল করতে কোন বাধা নেই।’ তিনি শাসকগোষ্ঠীর এমন আদিবাসী বিদ্বেষী নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here