পাহাড়ি ঝিরির পানি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেকে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা এই ইউনিয়নে মূলত পাংখোয়া, চাকমা, লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। করোনা মহামারীর এই ভয়াবহ সময়ে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ৫টি মৌজার স্থানীয় আদিবাসীরা পড়েছেন তীব্র খাবার পানির অভাবে।

সাজেকের শিয়ালদাই ১৬৯ নং মৌজার হেডম্যান ও ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার জৈপুথাং ত্রিপুরা জানান, সাজেকের শিয়ালদাই, কংলাক, বেটলিং, লংকরসহ বেশ কয়েকটি মৌজায় চরম খাবার পানির সংকট চলছে। অথচ এখানের পুরাতন জুপুই পাড়ায় ৪০ পরিবার, নিউ থাংনাং পাড়ায় ৫০ পরিবার, তারুম পাড়ায় ২৫ পরিবার, কমলাপুর পাড়ায় ১৯ পরিবার, লুংথিয়ান পাড়ায় ৬২ পরিবার, অরুন পাড়ায় ৭০ পরিবার, খাইচ্যা পাড়ায় ৩০ পরিবার, শিয়ালদাই পাড়ায় ৬২ পরিবার, হাইস্কুল পাড়ায় ৩৫ পরিবার, খগড়াকিচিং পাড়ায় ২৬ পরিবার, নিউ লংকর পাড়ায় ২২ পরিবার, অলংকার পাড়ায় ১৮ পরিবার, হুাদুক পাড়ায় ১৪ পরিবার এবং আনন্দ পাড়ায় ২৮টি পরিবারের বসবাস।

পানির জন্য সেখানকার আদিবাসীদের প্রচুর কষ্ট করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লুইংখিয়ান পাড়ার এক স্থানীয় আদিবাসী। তিনি আরও জানান, অনেক পাহাড় ডিঙিয়ে ঝিরি থেকে গিয়ে পানি আনতে হয়।  আগে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ের নীচু স্থানে কয়েক হাত বালি মিশ্রিত মাটি খুঁড়লে পরিস্কার ঠান্ডা পানি পাওয়া যেতো। সেসব কুয়া খাবার পানির যোগান দিত। এখন আরো গভীর করে কুয়া খুঁড়লেও পানি পাওয়া যায় না, পানি ওঠে না।

সাজেক ইউপি মেম্বার জৈপুথাং ত্রিপুরা বলেন, বর্ষাকালে পাহাড় থেকে পানি আসলেও প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে এখানে পানির সংকট দেখা দেয়। এখানে গ্রামগুলো থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূরে ছড়ায় গিয়ে দুই তিন ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এরপরও ছড়া ঝিরির পানিগুলো বিভিন্ন লতা-পাতা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। ওই পানিগুলো খেলে ডায়রিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়।

সাজেকের পাহাড়ে উচুঁ জায়গায় পানির সমস্যা  প্রকট। এখানে পাথরের কারণে রিং ওয়েল বসানো যায় না বলে জানিয়েছেন সাজেকে থুইচুই এর ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার হীরানন্দ ত্রিপুরা। 

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, গত দুই তিন অর্থ বছরে ৩০-৪০টি রিং ওয়েল করেছি। কিন্তু এখানে বেশিরভাগ এলাকা খুবই দুর্গম যার কারণে খাবার পানির সংকট লেগেই থাকে। পানির সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নত করতে হবে।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু বলেন, সাজেকে খাবার পানির সমস্যা অনেক দিনের। এখানকার এলাকাগুলো অনেক দুর্গম হওয়াতে এখানে রিং ওয়েল বসানোর মতো সুযোগ নেই। তবে সেখানে একটি রাবার ড্যাম্প করার জন্য গত মে মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি টিম সাজেকের শিজকছড়া মুখ এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। এটি নিয়ে সাজেকের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের  সাথে মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কারণ এখানে এ ড্যাম্পটি করার পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে আছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here