ছবিটি প্রতীকি

কুসংস্কারে নিমজ্জিত ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক নারী তন্ত্র সিদ্ধির লালসায় নিজের মানসিক ভারসাম্যহীন ১০ বছরের ছেলেকে বলি দিয়ে বাড়ির মধ্যে গর্ত খুঁড়ে পুতে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। ঘটনাটা ঘটেছে ভারতের নাগরাকাটা ব্লকের কুর্তি চা বাগানের আপার ডিভিশন শ্রমিক বস্তি এলাকায়।

আদিবাসী ওই নারী হিরামনি কুন্তি চা বাগানের আপার লাইনের বিনোদ পান্নার স্ত্রী। ওই নারী তন্ত্র সাধনা করতেন বলে জানা যায়।

চা বাগানের শ্রমিকনেতা জয়পাল ওরাঁও জানান, চা বাগানের আপার লাইনে ওরাঁও জাতিগোষ্ঠীর বিনোদ-হিরামনি বলে এক দম্পতি থাকে। হিরামনির গলায় বিভিন্ন তাবিজ রয়েছে। তিনি বাড়িতে ঠাকুরঘর বানিয়ে তন্ত্র মতে পূজা করতেন। তাদের এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন। গত রবিবার রাতে হঠাৎ সেই ছেলে কাঁদতে কাঁদতে শ্রমিক মহল্লায় দৌঁড়ে বেরিয়ে আসে। 

তাঁর পেছনে মা ছুটে আসে। মহল্লার শ্রমিকরা জানতে চাইলে ছেলেটি জানায়- তাঁর মা তাকে জাদুটোনা করে বলি দিয়ে মেরে পুঁতে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই পালিয়ে এসেছে। কিন্তু ছেলেটির মা জানায় যে, ছেলেকে ভয় দেখানোর জন্য এমন করেছে।

পরে বাগানের শ্রমিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখে ঘরের মধ্যে তিন ফুট গভীর গর্ত খোঁড়া রয়েছে। এতেই সবার মনে সন্দেহ হয়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে ওই দম্পতিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

চা বাগানের একজন শিক্ষক জানান, খবর পেয়ে আমরা ওই ঘরে গেলে বিরাট গর্ত দেখতে পাই। কেন গর্ত খুড়েছিল জানি না। পশ্চাৎপদ আদিবাসী সমাজে এখনো ডাইনি হত্যাসহ বিভিন্ন কুসংস্কার রয়েছে। এর বিরুদ্ধে লাগাতার সচেতনতা প্রচার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাগরাকাটা থানার ওসি সঞ্জু বর্মন জানান, ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here