ক্রহজাইং মারমা
ক্রহজাইং মারমা (৩৬)। ছবি: জনজাতির কন্ঠ

সাচিংমং মারমা, খাগড়াছড়ি: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘর মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় আশ্রয়হীন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে খাগড়াছড়ি গুইমারার এক প্রতিবন্ধী মারমা নারী। প্রচণ্ড ঝড়ে তাঁর বসবাসের একমাত্র ঘরটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে সে হয়ে পড়েছে আশ্রয়হীন, নিঃস্ব। বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে।

রোববার সন্ধ্যা থেকে হালকা দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ রাত ৮.৩০ ঘটিকার সময় ঝড় প্রবল বেগে বইতে শুরু করে। এই ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ঘন্টাখানেকের মতো। আর এতেই ভেঙ্গে পড়েছে ক্রহজাইংয়ের ঘর।

উপজেলার হাফফড়ি ইউনিয়নের নতুন মারমা পাড়ার মৃত সাথোইয়াই মারমার মেয়ে ক্রহজাইং মারমা (৩৬) বসবাসের একমাত্র ঘরটি হারিয়ে নিঃস্বে পরিণত হয়েছেন। প্রতিবন্ধী এই নারীর ছোট্ট কুঁড়ে ঘরটিই ছিল একমাত্র বেঁচে থাকার স্বপ্ন। আজ সে স্বপ্নও ভেঙ্গে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে ক্রহজাইংয়ের টিন চালার ঘর বাতাসে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এদিক ওদিক পড়ে আছে টিনের পাতা। ভিটেয় পড়ে আছে চালা। সেই ভিটেয় ঠেস দিয়ে বসে মাথায় হাত দিয়ে প্রতিবন্ধী ক্রহজাইং জনজাতির কন্ঠের এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘর ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ঘর হারিয়ে আমি এখন আশাহীন। বেঁচে থাকার ইচ্ছা শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।

ক্রহজাইং জন্ম থেকেই চোখে দেখতে পান না। বাবা মাকে রেখে চলে গিয়েছিল। তার একমাত্র সম্বল ছিল মা। সেই মা ছেড়ে চলে গেছেন। চলে যাবার পর ভীষণ একলা করে গেছেন ক্রহজাইংকে।

সরকারি গৃহায়ণের ব্যাপারে তিনি জানেন কিনা জিজ্ঞেস করতেই আক্ষেপ প্রকাশ করে এই মারমা নারী বলেন, ঘুষ ছাড়া এসব ঘর পাওয়া যায় না। তাছাড়া আমার মতো অন্ধ মানুষের কাছে নেতারা শুধুমাত্র ভোট চাওয়ার জন্যই আসে। ভোটের পর আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। ধনীরা ধনীর জন্যই, গরীবের জন্য নয়। শেখ হাসিনা ধনী; তাই সে ধনীদেরই ঘর দেন আমাকে দিবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। ভাঙা গলায় বলে যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী।

তিনি সামান্য সরকারি ভাতা পেতেন। ভাতার টাকা ও সমাজের মানুষে সহায়তায় ছোট একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। ছোট্ট ঘরটি ফিরে পেতে সমাজের সকলের কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মারমা নারী।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here