জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বড় বড় নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ছবি : জনজাতির কন্ঠ

আদর আরেং: জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সবাই উদ্বিগ্ন। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্দোলন। শিল্পী সাহিত্যিকরা বেধেঁছেন গান। এমনই একটি ইংরেজী গান যাঁর লিরিক এরকম ‘উই নিড ওয়াকআপ, উই নিড ওয়াইজ আপ, উই নিড ওপেন আওয়ার আইস নাউ, উই নিড বিল্ড বেটার ফিউচার, স্টার্ট রাইট নাউ’। এই গানের সুরে সারাবিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ কন্ঠ মিলিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বের সকল ভাষায় কমবেশ গান আছে। এবার জলবায়ু পরিবর্তন রোধে মান্দি গান বেধেঁছেন জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার ফরিদ জাম্বিল। গানে গানে তিনি তুলে এনেছেন প্রকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা। গানটি-

মান্দি: থুপায়েং জক চিরিং চিমাং/ দালবাত গিব্বা চিবিমারাং/ বন্নায়েঙজক আব্রি বুরুং/ নিথুগিব্বা বলগ্রিমরাং/ বলগ্রিম দঙজায়ে মিখা চিমা ওয়াজানে/ আনচেং সাগাল হংএসা নাতক নাবা বন্নাআঙনে/ সিমচিরিরিক চিরিং চিমাং/ সাল রাকগি দিংঅদে/ চিরিংবা খকখুমাও খাসিনা/ চিরিং চিমাংও বাকনা খনা নাঙজানে/ রংথি রাঙসা চিরিংখো সিমচিরিরিক রুখাতানে/ আব্রি বলগ্রিম রাংআ খাসায়ে/ বিসা দিসা সুঅতচিনা/ গিএ গয়ে দনাংবনে।

মান্দি এই গানটির বাংলা এমন- শুকিয়ে যাচ্ছে ঝর্ণা ও নদী/ ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি/ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য/ বন জঙ্গল ধ্বংসের কারণে কমে যাচ্ছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ/ পানি শূন্যের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নদীকেন্দ্রীক জীববৈচিত্র/ পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার জল/ প্রখর রোদে আমাদের শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়/ ঝর্ণা মরে যাওয়ায় পাহাড়ের নদীগুলো হয়ে পড়েছে পানি শূন্য/ বালু পাথর উত্তোলনের ফলে প্রকৃতির উপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব/ পাহাড়ের সাথে মেঘ-ঝর্ণা আর জঙ্গলের মিতালীতে মুগ্ধ হই/ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে লেখা এই গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন সমাপন স্নাল। এই গানে কেবল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের কথাচিত্রই উঠে আসেনি, ফুটে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমী মান্দিদের গভীর জীবনবোধ। আগের মান্দিদের মতোই বর্তমানের মান্দিরাও বিশ্বাস করে, বন প্রকৃতি না থাকলে জীবন থাকবে না, মানুষ থাকবে না। মান্দিদের সেই আদি বিশ্বাস বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here