স্টাফ রিপোর্টার: বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহ চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আজ (১৮ নভেম্বর), বিকাল ৪ ঘটিকায় শহরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা মিটন চাকমার সভাপতিত্বে এবং রোনাল চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল চবি শাখার সভাপতি উথোয়াই মারমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নগর শাখার প্রচার সম্পাদক কাজী আরমান, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিভাগীয় সমন্বয়ক কাজী শফিকুল ইসলাম রাব্বি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সায়মা আক্তার নিশু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) নগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীপা মজুমদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা তিতাস চাকমা, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল (পূর্ব-৩, চট্টগ্রাম অঞ্চল) সদস্য সচিব এ্যডভোকেট আমির আব্বাস তাপু, জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম সদস্য সচিব ডাঃ সুশান্ত বড়ুয়া প্রমুখ।

সমাবেশে ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, ‘চিম্বুক পাহাড়ে শিকদার গ্রুপ ও সেনা কল্যাণ সংস্থা ম্রো জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের মুখে ঠেলে দিয়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় আওয়মীলীগ সিকদার গ্রুপকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে সেনাবাহিনী সিকদার গ্রুপের সাথে হাত মিলিয়ে পুরো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে নিজেরাই সন্ত্রাসবাদ জিইয়ে রেখেছে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেত্রী সায়মা আক্তার নিশু বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ পাহাড়ীদের যে উচ্ছেদের চক্রান্ত শুরু হয়েছিল তা স্বাধীন বাংলাদেশে এসেও চলমান রয়েছে। যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহান ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে সে সেনাবাহিনী আজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা আজ সাজেকের লুসাইদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে পর্যটন তৈরী করেছে এবং বিতর্কিত সিকদার গ্রুপের সাথে মিলে বান্দরবান চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের দ্বারা সেখানকার জনগোষ্ঠীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। সেনাবাহিনীর জন্য এর চেয়ে লজ্জাস্কর বিষয় আর কি হতে পারে।’

বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা তিতাস চাকমা বলেন, ‘সারা দেশব্যাপী যখন উচ্ছেদের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে এবং পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে তখনই গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্থানীয় আওয়মীলীগ ও সাম্প্রদায়িক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ জনগোষ্ঠীদের বিভিন্ন হুমকি, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন নাটক মঞ্চস্থ করেছে। পর্যটনের নামে জনগোষ্ঠীদের ভূমি দখলের চক্রান্ত বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর নেত্রী দীপা মজুমদার বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপ মিলে যে জায়গায় পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন নির্মাণ করছে অথচ সেখানে কোনো স্কুল, হাসপাতাল নেই। সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপের দখলদারিত্ব ও পাহাড়ি নির্মূলের যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মিটন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে জোরপূর্বক ভূমি দখল পাহাড়িদের নির্মূলকরণের ষড়যন্ত্রের অংশ। অবিলম্বে পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং চিম্বুকে পাঁচ তারকা হোটেল ও পযটন নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।”

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চেরাগী মোড় থেকে প্রেসক্লাব ঘুরে এসে পুনরায় চেরাগী পাহাড় মোড়ে শেষ হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here