পরিকল্পনামন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা আরও কিছুদিন বহাল রাখা উচিত। কেননা তারা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারা ঐতিহাসিকভাবে একটা অন্যায়ের শিকার। তাদের জন্য সুযোগ রাখা হলে বৈষম্য কিছুটা হয়তো কমবে। রোববার (২ মে) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত আদিবাসীদের জন্য বাজেট সম্পর্কিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আদিবাসীসহ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আদিবাসীরা যেখানেই থাকুক তাদের স্বীকৃতি, তাদের প্রতি আলাদা মনোযোগ এবং সম্মানের প্রয়োজন আছে। অতীত থেকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে। সেটি অব্যাহত থাকবে। তারপও আমি ব্যক্তিগতভাবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আদিবাসীদের বিষয়টি আলোচনা করব। তবে সুশীল সমাজসহ আপনারা যারা এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদেরকেও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। কেননা এটা একটি চলমান সংগ্রাম।’

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিনা রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘আদিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিকরণ বাজেট’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায়, রাশেদ খান মেনন, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছা.হামিদা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে আদিবাসী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্য আগামী বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখতে হবে। এছাড়া আদিবাসীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা উচিত। সামাজিক সুরক্ষা বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ সুর্নিদিষ্ট করতে হবে। সেইসঙ্গে তাদের জন্য বরাদ্দ যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না সেটি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি কমিটি করা প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে দেশের আদিবাসীদের জন্য একটা আলাদা প্যারা সংযোগ করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সব জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান জরুরি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সমতলের আদিবাসীরা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। তরুণ জনগোষ্ঠী কাজ না পেয়ে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য কর্মসংস্থান তৈরির বিশেষ উদ্যোগ থাকতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ বহুজাতির দেশ। এই সত্যটা উপেক্ষিত হয়েছে বারবার। ফলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির সুফল এখনো মেলেনি। কিন্তু সুযোগ এখনো আছে। সেটি কাজে লাগিয়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে।

তারা বলেন, দেশে ৪০ লাখ সমতলের আদিবাসী আছেন। যারা কোন সুনিদিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়েন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা করে একজন সচিব বা অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

1 মন্তব্য

  1. আদিবাসীদের জন্য সব ক্ষেত্রে কোটা বহাল রাখা হলে এবং আদিবাসীদের প্রাপ্য অধিকার দিলে তবেই বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here