সাঁওতাল আদিবাসীদের ইতিহাস, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, নিদারুণ জাতিগত বৈষম্য, লেগে থাকা দুঃখ দুর্দশা, হতাশা, প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে নির্মিত হল ‘সুজুকি’ নামের চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির নির্মাতা সোয়েব সাদিক। আশা করা হচ্ছে, সাঁওতাল সমাজ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে  চলচ্চিত্র ‘সুজুকি’। রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমি,  দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন সাঁওতাল পল্লীতে হয়েছে এর শুটিং।

‘সুজুকি’ মাহি কথাচিত্রের ব্যানারে প্রযোজনা করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সোয়েব সাদিক সজীব; গল্প, রচনা, সংলাপ ও নাট্যরূপ করেছেন বরজাহান হোসেন।

চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী দিলারা জামান, একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা আরমান পারভেজ মুরাদ, কচি খন্দকার, কাজী রাজু, কোহিনুর আলম সহ প্রায় ৩০ জন সাঁওতালি শিল্পী।

এ প্রসঙ্গে দিলারা জামান বলেন, এ সিনেমায় সাঁওতাল এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। খুবই চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্র। অনেক কষ্ট করেছি। চরিত্রের প্রয়োজনে পুরো শরীরে কালো মেকআপ দিয়ে সারাদিন থাকতে হয়েছে। তবে কষ্ট হলেও কাজটা করে ভালো লেগেছে।

শিপন মিত্র বলেন, সাঁওতালদের গ্রাম আগে কখনো দেখিনি। সেখানে বাড়ি, মাঠ ও ক্ষেত বেশ দূরে দূরে। মানুষগুলো অনেক মিশুক। অনেক দিন পর মুক্ত আকাশের নিচে বেশ আনন্দে কাটালাম।

সিনেমায় পরিশ্রমী সাঁওতালী মানুষের প্রেম, ভালবাসা, সরলতা এবং বিশ্বাসের গল্প ফুটে উঠবে। এই সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বলে জানান এই অভিনেতা।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা সোয়েব সাদিক বলেন, ‘সাধারণত আমাদের সিনেমার মহরত হয় ঢাকায়। কিন্তু আমরা যে অঞ্চলের মানুষের গল্প বলতে চলেছি বা যাদের গল্প বলেছি, তাদের সাথেই শুভ মহরতের আনন্দ ভাগ করেছি এবং গানের শুটের মাধ্যমে সেখানেই শুটিং শেষ করে আসলাম। আমি চেষ্টা করেছি সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে একটা ম্যাসেজ দিতে। যেখানে ফুটে উঠবে সাঁওতালদের সংস্কৃতি- ঐতিহ্য, ইতিহাস, জাতিগত বৈষম্য, তাদের দুঃখ-দুর্দশা, প্রেম-ভালোবাসা।’

সুজুকি সিনেমায় ২টি গান প্লেব্যাক করেছেন বাংলাদেশের একমাত্র সাঁওতালি ব্যান্ড সেঙ্গেল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here