চট্টগ্রামের এক রেস্টুরেন্টে চুরির অপবাদে মারমা সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বেধড়ক পিটিয়েছে কর্মচারীরা। এতে তার ডান চোখ গুরুতরভাবে জখম হয়। এ সময় তারা মারমা ওই ছেলেকে হত্যা করারও হুমকি দেয়।

জানা গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার মং চিং মারমার ছেলে অং শিমং মারমা (১৯) জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরে এসে চাকরি নেন জামালখান রহমতগঞ্জ এলাকার জাফরান রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের চাকরি ছেড়ে তিনি দেওয়ানবাজার সাবএরিয়ার আরেকটি মুদি দোকানে চাকরি নেন।

এর মধ্যেই আগের কর্মস্থলের তিন সহকর্মী মিলে তাকে রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে মেরে আহত করে। এ ঘটনায় অং শিমং মারমা কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

অং শিমং মারমা জানান, আমার সাবেক তিন সহকর্মী অন্তু, জাবেদ ও রিফাত আমাকে ডেকে নিয়ে জাফরান রেস্টুরেন্টে কোন কথাবার্তা বলা ছাড়াই এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে। তাদের আঘাতে আমার ডান চোখ জখম হয়। বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি মারতে থাকে। এছাড়া আমাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে। আমি টাকা না দেওয়াতে তারা দ্বিতীয় দফায় আমাকে মারধর করে এবং আমাকে হত্যা করবে বলে বিভিন্ন হুমকি দেয়।

জাফরান রেস্টুরেন্টের মালিক বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘অং শিমং মারমা আমার রেস্টুরেন্টে কাজ করতো। আমার এখান থেকে সে না বলে অন্যত্র চাকরি নিয়েছে। আমার সাথে দেনা-পাওনাও মেটানো হয়েছে। কিন্তু স্টাফদের বাসার মালামাল চুরি হয়েছে বলে শুনেছি। তারা এটার জন্য তাকে সন্দেহ করেছে।’

বাবুল চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি এখন গ্রামের বাড়ি আনোয়ারায়। শহরে আসলে দেখবো। কারণ চুরি করলেও মারামারির তো সুযোগ নেই। আমরা আছি, আমরা সমাধান করতে না পারলে সেটা প্রয়োজনে থানায় যাবে। মারামারিতে তো ব্যবসায়িক সুনাম যেমন নষ্ট হবে, তেমনি আইনও ভঙ্গ হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here