সালগ্রা চাম্বুগং: ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় গারোরা ছিল জাতি হিসেবে যোদ্ধা জাতি। আপনারা যাদের গারো বলে চিনেন, আমরা সেই গারোরা নিজেদের মান্দি জাতি বলে পরিচয় দিয়ে থাকি। ঐতিহাসিক তথ্যে পাওয়া না গেলেও গারোদের উপকথা অনুযায়ী, গারোরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অসামান্য বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। কিছু বইপত্রে তাদের বীরত্বের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়।

এরকমই একটি গল্প। একবার বিহারের রাজা থগাপ্পার সঙ্গে গারোদের যুদ্ধ বাঁধে। সেই যুদ্ধে গারোদের হাতে বিহারের রাজা থগাপ্পার মৃত্যু হয়। ভাগ্যক্রমে তাঁর পুত্র সুধাংশু বেঁচে যান। পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন গৌড় রাজার কাছে। যেটি বর্তমানে ভারতের মালদা জেলায় অবস্থিত। যার কিছু অংশ আবার বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে পড়েছে। থগাপ্পার পুত্র সুধাংশু বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকেন। চোখের সামনে বাবার মৃত্যুকে কোনভাবেই যেন মেনে নিতে পারছিলেন না। প্রতিশোধের আগুনে বুকের ভিতরটা তাকে পুড়িয়ে মারছিল।

সুধাংশু পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে গৌড় রাজার কাছে সৈন্য প্রার্থনা করেন। গৌড় রাজা সৈন্য দিতে সম্মত হন। পরে সুধাংশু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে হাজার হাজার সৈন্য-সারথী নিয়ে বিহারের দিকে রওনা দেন। সেই খবর শিগগিরই গারো যোদ্ধাদের কানে পৌঁছে যায়। এই যুদ্ধে লিপ্ত হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে জেনে গারোরা পূর্বাঞ্চলের দিকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সংদু নদী, যা বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদী নামে পরিচিত। গারোরা এতো বড় নদী পার হতে পারছিল না।

এমন অস্থির দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে বিহারের আরেক রাজা কাথাপ্পা গারো যোদ্ধাদের কাছে প্রস্তাব পাঠান, যদি তারা কোনো এক সুন্দরী রমণীকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেন, তাহলে তিনি নদী পার করার ব্যবস্থা করে দিবেন। রাজার এমন প্রস্তাবে গারো নেতৃবর্গ রাজি হতে পারলেন না। এই বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা হল। সবাই একমত হলেন- গারোরা কখনো নিজেদের সন্তানদের বিজাতিদের সঙ্গে বিয়ে দেয়নি, এবারও দেবে না। মৃত্যু খুব কাছাকাছি জেনেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন নেতৃবর্গ। তারা মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করে নিবেন কিন্তু কোনদিনও নিজ জাতির কন্যাকে বিজাতির হাতে তুলে দিবেন না।

গারো নেতৃত্বের কঠিন সিদ্ধান্ত জানার পর এক রূপবতী এবং বুদ্ধিমতী কন্যা ডিমরি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। খুব কষ্টে বুদ্ধিমতী ডিমরি সবাইকে রাজি করালেন যে নিজেকে উৎসর্গ করে হলেও জাতিকে রক্ষা করবেন। ডিমরি বুঝতে পেরেছিলেন গারো জাতির অস্তিত্ব রক্ষা করার আর কোনো পথ খোলা নেই। তাই তিনি বিহারি রাজার কাছে নিজেকে সঁপে দিলেন। এভাবেই তিনি রক্ষা করলেন পুরো গারো জাতিকে। বিহারি রাজা কাথাপ্পা তাঁর প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর নিজের সৈনিকদের নির্দেশ দিলেন সংদু নদী পার করে দিতে। সৈনিকরা রাজার নির্দেশ পেয়ে তিনশো কলাগাছের ভেলা বানিয়ে গারোদের সংদু নদী পার করে দিলেন। কিন্তু ওপারে চিরজীবনের জন্য থেকে গেলেন রূপবতী এবং বুদ্ধিমতী কন্যা ডিমরি।

1 মন্তব্য

  1. এখন বাবা মা বিবাহ করাই না, গারো মেয়েরা শহরে চাকুরীর নামে এসে বাবা মার্ ছাড়াই নিজেরাই বিবাহ করে নিচেছ, ভিনজাতির বক্ষ আলিঙ্গন করছে দিদারসে।
    ভিনজাতির বক্ষ আলিঙ্গন করি মেয়েরা ৮ নং নড়াইল কুমুরিয়া গ্রামের মেয়েরা অনেক আছে। যা আমি মেনে নিতে কষ্ট হয়। একাএকা প্রতিবাদ করা নিজের ক্ষতি নিজেই করার মতো আমার অবস্থা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here