সুমনা চিসিম

বেশ ক্লান্তি অনুভব করছি। একটানা ১৫ দিন। অনেক দিনের প্রশিক্ষণ বটে! ভালো ভালোই শেষ করলাম। অনেক রাত হৈ হুল্লোর করে কাটালাম সবার সাথে। ঘুম ছাড়ছেনা। না দেরি করে উঠলেও ক্ষতি নেই। এমন আরামদায়ক বিছানাও টানছে বেশি করে। তাড়া কিসের। নাস্তা খাওয়ার পর কোন কাজ নেই। যেতে হবে এই যা! লিরা’র প্রতি এক ধরনের টানেই হয়তোবা উঠতে মন চাইছেনা। এ শহর, মানুষজন সব কিছুই সুন্দর ও আন্তরিক । অনেকদিন থাকতে থাকতে সে দেশ, শহর, গ্রাম বা মানুষজনের প্রতি মায়া টান যাই বলি এটা সবার ক্ষেত্রেই হয়তো হয়। আমার বেলায়ও তা-ই।

সাদাসিধে মানুষজন। খাদ্য খাবারে ভেজাল নেই। খাঁটি। শহর গ্রাম একই। তাছাড়া অন্য জাতি, বর্ণ, দেশ বলে তফাৎ করতে জানে না, করেনা। সবখানেই সবার কাছ থেকে মর্যাদা ও সন্মান পেয়েছি। চার্চেও গিয়েছি। সেখানেও সবার সাথে পরিচয় করিয়ে, সামনে আসন দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। দেশ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম সকলের জন্য তারা বিশেষ প্রার্থনাও জানিয়েছে। এমন এমন মানুষ জনের সংস্পর্শে এসে আর কি ফিরতে মন চায়!

না! আর না উঠে উপায় নেই। ঝটপট রেডি হলাম। নিচে গিয়ে নাস্তা খেয়ে নিলাম চটজলদি। হোটেলের সকলেই অতি পরিচিত। খাওয়া দাওয়া নিয়ে মজাও করতাম। টুকিটাকি তাদের খাবার, আমাদের খাবার নিয়ে কথা হতো। মশলা ছাড়া রান্না তাদের। সয়াসস বা টমেটো সস, বিন ইত্যাদি দিয়েই সাধারণত রান্না। সিদ্ধও হয়। শিমুল আলু সিদ্ধ, আলু সিদ্ধ, মিষ্টি আলু সিদ্ধ, জংলী আলু সিদ্ধ, কাঁচ কলা সিদ্ধ। সবই।আমরাও তাই করি। মাংস পুড়ে যেমন তারাও খায়। আমরাও তা-ই খাই। তেলের ব্যবহার কম বলে স্বাদ নেই এমন নয়। খাওয়া দাওয়ায় আমার কোথাও অরুচি নেই। সবই খেতে পারি। আগ্রহও আছে অন্য স্বাদের স্বাদ নেয়া।

সে যাক। কামপালায় রওনা দিলাম। আমরা চার জন। মে, আশিক ভাই, ভিনসেন্ট ও আমি। Stromme Foundation এর অফিসের গাড়ি। লিরা শহর, গ্রাম, মানুষজন, গাছপালা সকলকে পেরিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলছে। আমি জানালা দিয়ে মন ভরে দেখে নিচ্ছি! হয়তো এ জন্মে আর কোনদিন আসতে পারবো না এ শহর এ গ্রামে। বিদায় লিরা, বিদায় Gracious Palace Hotel, বিদায় Jackfruit, Rabbit, Moon, Money, Wine, Nile আরও সকল অংশগ্রহণকারী। বিদায় লিরাবাসী।

(চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here