সুদেব চক্রবর্তী। ছবি : ফেইসবুক

বাংলাদেশে আদিবাসী সংকট অনেক আগে থেকেই। একদিকে রাষ্ট্র তাদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, অন্যদিকে তাদেরকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।  তাছাড়া এদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন যতটা আলোচিত, আদিবাসী জনগোষ্ঠির ওপর নির্যাতন নিয়ে ততটা কথা হয় না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীরা দীর্ঘকাল আগে থেকেই তাই সংগ্রাম করে আসছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য।

জাতিগত বৈষম্য ও জুমল্যান্ড

পাহাড় কিংবা সমতলে সবখানে চলছে আদিবাসীদের ভূমি দখল, ভাষার প্রতি অবিচার ও নানামুখী নির্যাতন। এসবের কারণ একটাই। রাষ্ট্র আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলাদেশ মনে করে এদেশে কোনো আদিবাসী নেই। বাঙালির বাইরে যারা আছে তারা মূলত বহিরাগত এবং উপজাতি। অথচ আদিবাসী সংজ্ঞা অনুসারে এটাই প্রমাণিত যে এদেশে বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে চাকমা, মারমা তথা জুম্মরাই আদিবাসী। আদিবাসী নির্যাতন ও বৈষম্যের ঘটনা মূলত পাহাড়েই বেশি আলোচিত। কারণ সেখানকার সেনা শাসন ও সেটেলার বাঙালিদের নোংরা আচরণে আদিবাসীরা সেখানে নিজভূমে পরবাসী হয়ে পড়েছে। তাই নিজেদের অধিকার দাবীতে পাহাড়ে যেমন জমছে ক্ষোভের আগুন, তেমনি বাড়ছে রাষ্ট্র কর্তৃক নিগ্রহ। ‍আর ‍এর মধ্য দিয়েই সেখানে তৈরি হয়েছে জুমল্যান্ড নামক ‍একটি নীল নকশা। জুমল্যান্ড নামে যে দেশটির গুঞ্জন চলছে সেটির মানচিত্র ও পতাকার নকশাও ‍ইতোমধ্যে করা হয়ে গেছে। জুমল্যান্ড ‍এক ‍আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের নাম। যদিও পাহাড়ি জনগোষ্ঠি বা জুম্ম জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত জুমল্যান্ডের স্বপ্নে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় তাহলে সেটা ‍আশ্চর্যজনক কিছু হবে না ‍এবং ‍এটার জন্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দায়ী থাকবে। ‍ আদিবাসী বা ‍উপজাতি বিতর্কের কোনো প্রয়োজন ছিল না যদি তারা বৈষম্যের শিকার না হত।

সংগ্রামের পূর্বকথন

১৭৬০ সালে মীর কাশেম এর কাছ থেকে ঐ এলাকার ভার নেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সেখানকার চাকমারা তা মেনে নেয়নি ‍এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুরু করে গেরিলা যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ ২৫ বছর পর ১৭৮৫ সালে শেষ হয়। ‍এরপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তারা বিদ্রোহ করেছে। ‍এ তো গেল তাদের অধিকার ‍আদায়ের লড়াই। ১৯৭১ সালে তারাও মুক্তিযুদ্ধ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি তাদের সাথে যে ‍আচরণ শুরু করলো তা বিমাতাসুলভ। ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি চারু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে ‍আদিবাসীরা তাদের দাবী-দাওয়া নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে যান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদেরকে হতাশ করেন। পরবর্তীতে রাজা  মং প্র মাহিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত জনের ‍একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধুর কাছে ‍আসেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দেখা না মিললে দাবীগুলো তাঁর দপ্তরে রেখে যান। ১৯৭২ সালের ২৪ ‍এপ্রিল মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ‍ঐ দাবীগুলোই ‍আরও বিস্তারিতভাবে পেশ করেন বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণেতাদের কাছে। কিন্তু সে দাবীগুলো মানা হয়নি। বঙ্গবন্ধু মানবেন্দ্র লারমাকে বলেছিলেন, ‘তোরা সব বাঙালি হইয়া যা’। ‍এমন অবান্তর মন্তব্য সবাইকে হতবাক করে দেয়। অবশ্য ‍এতে খুব বেশি অবাক হবার কিছু নেই। কারণ বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন ‍এবং তার দল ‍আওয়ামীলীগের চরিত্রও তাই ছিল। মানবেন্দ্র লারমা বলেছিলেন- ‘…একজন মারমা কখনই চাকমা হতে পারে না, ‍একজন চাকমা কখনওই ম্রো হতে পারে না। ‍আমি বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশি। ‍আপনারাও বাংলাদেশি, তবে জাতি হিসেবে ‍আপনারা বাঙালি, ‍আদিবাসী বাঙালি হতে পারে না’। কিন্তু ‍আদিবাসীদের দাবী মেনে নেয়া তো হলই না, বরং শুরু হল বৈষম্য। তাদের ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছু হুমকির মুখে ফেলে দিল স্বয়ং রাষ্ট্র বাংলাদেশে। ফলে দেখা দিয়েছে ‍আরেকটি ‍আশংকা। সেটি হল ২০৯০ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে ৬০০০ ভাষার মধ্যে ৩০০০ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যার মধ্যে রয়েছে ‍আদিবাসীদের ভাষা।

উন্নয়নের নামে আদিবাসী উচ্ছেদ

এর ‍আগে ‍উন্নয়নের নামে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই হ্রদ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ ‍উৎপাদন শুরু হয়। ‍এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে সেখানকার ‍আবাদী জমি, বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ‍এর পরিমাণ ৫৪ হাজার ‍একর। ১ লক্ষ চাষা ‍উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার কথা থাকলে দেয়া হয় দেড় কোটি টাকা, সে টাকাও মানুষের কাছে পৌঁছায়নি, চলে গেছে রাজনীতিবিদ ও ‍আমলাদের পকেটে।

গাইবন্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনি কলের নামে ‍আদিবাসী সাঁওতালদের ভূমি কেড়ে নেয়া হল। তার প্রতিবাদ করায় পুলিশ ও বাঙালিরা হামলা করে। পুলিশের গুলিতে মারা যায় তিন জন। ‍আবার তাদের ‍উপরই চাপিয়ে দেয়া হল মামলা। তারা হয়ে পড়ে গৃহহীন। মধুপুরে ‍ইকোপার্কের নামে ‍একইভাবে চলছে ‍আদিবাসীদের জমি দখল প্রক্রিয়া। ‍আবার তথাকথিত ‍উন্নয়নের কথা বলে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পাঁয়তারা চালানো হয়। ‍একটু সচেতন হলেই বোঝা যায় এই ‍কথিত উন্নয়ন কেবল বাঙালি স্বার্থের জন্য, ‍আদিবাসীদের জন্য নয়। ‍মহামতি লেলিন বলেছিলেন, ‘মানুষ তার পিতৃশোক ভুলতে পারে, কিন্তু ভূমি হারানোর শোক ভুলতে পারে না’। ‍আদিবাসীরা ‍আজ একদিকে যেমনি ভূমি হারাচ্ছে তেমনি হারাচ্ছে প্রাণ কিংবা সম্ভ্রম। ‍আর ‍এসবের মাধ্যমে রাষ্ট্র তাদেরকে ‍এই মাটি থেকে ‍উচ্ছেদ করতে চাইছে।

স্বশস্ত্র বিদ্রোহ, শান্তিচুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ‍আদিবাসীদের পরিস্থিতি ‍আরও বেশি বিরূপ হয়ে পড়ে। কারণ জিয়াউর রহমান পাহাড়ে মুসলিম বাঙালিদের অনুপ্রবেশ ঘটান। বাংলাদেশের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী ‍এই জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন পাহাড়িদের ‍উপর বাঙালি মুসলমানের ‍আধিপত্য। ‍আর সেই লক্ষ্য নিষ্কণ্টক করতে সেখানে কথিত শান্তির নামে রাখা হয় সেনাবাহিনী। কিন্তু বাঙালি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানী হানাদারদের মত তত্ত্ব ছিল- প্রতিটি পাহাড়ির ঘরে একেকটা বাঙালি জন্ম দাও- ‍আর ‍এভাবেই সেটেলার ও সেনাবাহিনী মিলে ধর্ষণ করতে থাকে জুম্ম নারীদের। ২০১৪ সালে সেখানে ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৩৪ জন ‍আদিবাসী নারী। ‍এর পাশাপাশি গুম, হত্যা, ভূমি দখল তো ছিলই।

যাহোক, রাষ্ট্রীয় শোষণ ‍আর বঞ্চনা দেখে দেখে ‍আদিবাসীরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। এক সময়কার ছাত্র ‍ইউনিয়ন নেতা মানবেন্দ্র লারমা ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন-আদিবাসী ছাত্র সমিতি। ১৯৭২ সালে গঠিত হয়- পার্বত্য সংস্কৃতি সমিতি। ১৯৭৩ সালে খাগড়াছড়ির জঙ্গলে বিকশিত হয়-শান্তিবাহিনী। ‍এখানেই হত অস্ত্র প্রশিক্ষণ। ১৯৭৩-৭৪ সালে চলে সদস্য সংগ্রহ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ। তারা প্রথম ‍আক্রমন করে ১৯৭৬ সালে ‍একটি পুলিশ দলের ‍উপর। শুরু হয় সংঘাত। ‍এর ‍আগে মানবেন্দ্র লারমা ১৯৭৩-এ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পার্লামেন্টে পাহাড়িদের কোনো পাত্তাই দেয়া হত না। ফলে অধিকার ‍আদায়ে অস্ত্র হাতে নেয়া ছাড়া কোনো ‍উপায় ছিল না।

অতঃপর ১৯৯৭ সালের ২ জানুয়ারি ‍আদিবাসীদের সাথে শান্তিচুক্তি হয়। ‍এই চুক্তির জন্য ‍আওয়ামীলীগ দাবী করে থাকে শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল দেয়া ‍উচিত। অতি দুঃখে হাসি পায় ‍এসব শুনে। কারণ ‍আজ পর্যন্ত সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি।

রাষ্ট্র গলা ‍উচু করে বলছে- ‍এদেশে কোনো ‍আদিবাসীই নেই। বরং তাদেরকে বলা হচ্ছে-উপজাতি। অথচ জাতিসংঘ প্রণীত ‍আদিবাসী শব্দের ব্যাখ্যা অনুয়ায়ী ‍এদেশে ৪৫টিরও বেশি ‍আদিবাসী রয়েছে যাদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে জুম্মরাই যে ‍আদি বসতি স্থাপনকারী তার প্রমাণ রয়েছে পর্যটক মার্কো পোলো কিংবা গবেষকদের জবানিতে।

যাহোক পাহাড়ে চলা অলিখিত সেনা শাসনের ফলে সেনাবাহিনী নিজেই সেখানে গুম, খুন ও ধর্ষণের সাথে জড়িত। চলছে পাহাড় দখল, ভূমি দখল, জুম্ম ‍উচ্ছেদ। তৈরি হয়েছে বিদ্রোহি গ্রুপ। বাড়ছে সহিংসতা। প্রতিনিয়ত অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। গতি পাচ্ছে জঙ্গিবাদী বা ‍আতঙ্কবাদী অপতৎপরতা। সেখানকার কোনো খবর ‍আমাদের মিডিয়ায় ঠিক ‍ঐ ভাবে ‍আসে না, স্পষ্টভাবে বললে- মিডিয়ায় ‍আনতে দেয়া হয় ‍না। ফলে অপপ্রচারের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সুস্থ ধারার প্রতিবাদ দেখা গেলেও তেড়ে ‍আসে প্রশাসন। কল্পনা চাকমার কথা মনে ‍আছে? বিপুল চাকমা কিংবা কয়েকদিন ‍আগে ঘটে যাওয়া রমেল চাকমার পরিণতি? সমস্যা হল ‍এখন সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও কার্যত বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। কারণ দিনে দিনে সেখানে বাঙালির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাপক গৃহযুদ্ধের ‍আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। ‍

জুমল্যান্ডের পরিণতি

উগ্র জাতীয়তাবাদের কারণে ‍পাহাড়ে মুক্তির জন্য হাহাকার চলছে। ‍আর সেখানে ‍আগুনে ঘি ঢালার মতন হাজির হয়েছে ‍এই জুমল্যান্ড থিওরি। ‍এটা কার্যত অসম্ভবও। সবচেয়ে বড় কথা ‍ধারণা করা হচ্ছে এর পেছনে রয়েছে ‍আরাকান ‍আর্মির হাত। ‍ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত। হয়তো মিয়ানমারও ‍এটা ‍উস্কে দিচ্ছে। কথা হচ্ছে জুম্মরা কি ‍ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অধিকার ‍আদায়ের পদ্ধতি শিখতে চান? নিশ্চয়ই না। ‍তারা কেবল অধিকার চান ‍একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যতটা ‍একজন বাঙালি পেয়ে থাকে। তারা তাদের ভূমি সমস্যার সমাধান চায়। তারা চায় সেখান থেকে সেনাশাসন ‍উঠে যাক। ‍সম্প্রতি লংগদুর মত ঘটনা তো পাহাড়ে কিংবা সমতলে প্রায়ই ঘটছে। তাই প্রতিরোধের প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে।  তাদের ভাষা তো বিপন্নই, ‍আবার চাকমা ভাষায় নির্মিত ‘মর থেংগারি’ চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করে সংস্কৃতিতেও ‍আঘাত হানা হয়েছে। লোক দেখানো মানববন্ধন না করে কঠোর ‍আন্দোলনের সময় ‍এখনই।

আমাদের রাজনৈতিক দর্শনে ‍এখন ‍উন্নয়ন বড় ‍একটা ফ্যাক্ট। ‍আর ‍এই ‍উন্নয়ন নীতি পরিচালনা করা হয় সম্পদ তথা মানুষের জীবন বিপন্ন করে। তার শিকার ‍আদিবাসীরাও। ‍এদেশে বাঙালিসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা পারস্পরিক সম্প্রীতিতে বাস করবে ‍এটা তো সবাই চায়। কিন্তু রাষ্ট্র কি ‍এটা চায়? মনে হয় না। কারণ ‍উগ্র জাতীয়তাবাদ বড় বাঁধা। ফলে কোনো ‍এক সময়ে যদি ‍এই জুম্মরা জুমল্যান্ড নামক চক্রান্তে পা দিয়ে ফেলে তখন ‍কিছুই বলার থাকবে না। ফিলিস্তিনে হামাস ‍একটি জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণ তাদেরকেই ক্ষমতায় ‍এনেছিল। কারণ ‍ইজরাইলের আগ্রাসনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার কারণে। সুতরাং ‍জুমল্যান্ড কোনো সমাধান নয়, বরং নতুন ‍আরেক সমস্যা তৈরি করা। যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে জুম্মরাই। ‍জুমল্যান্ডের মতন ‍এরকম ‍আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত না নিয়ে জুম্মদের ‍উচিত অধিকার ‍আদায়ে সংগ্রাম করা। ‍আর তাদের পাশে অবশ্যই বাঙালি প্রগতিশীলদের বিরাট অংশ থাকবে। বিচ্ছিন্নতার সময় ‍তৈরি হয়নি ‍এখনও। লড়াইটা হোক নিজ দেশ, নিজ ভূমির অধিকার ‍আদায়ের। ‍এই সত্যটা সেখানে থাকা অর্ন্তদ্বন্দ্বে জড়িত জুম্ম সংগঠনগুলো বিশেষত জেএসএস ও ‍ইউপিডিএফ-কে বুঝতে হবে। নইলে তাদের জন্য তো বটেই গোটা বাংলাদেশের ‍জন্য জুমল্যান্ড ‍একটা অশনি সংকেত।

লেখক : সুদেব চক্রবর্তী, কবি ও সাংবাদিক।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here