-লেখক

ইতিহাসে আদিবাসী ভাষা আন্দোলন এবং মাতৃভাষায় শিক্ষার সঞ্চার কেমন ছিল? বাংলাদেশে বাংলা ভাষাভাষীদের মাতৃভাষা অধিকার, স্বীকৃতির আন্দোলন শেষ হয়েছিল বিংশ শতকের ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের রক্তদানের পূণ্য দিয়ে। পরিপূর্ণতা পেয়েছিল জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সার্বজনীন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে। এখানে সেই বীর ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষা আজও তার তাজ ধরে রেখেছে; এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আদিবাসী/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষার অধিকার এবং চর্চার পথ গতি পেয়েছে। আদিবাসী/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের দীর্ঘ পথ চলা এখনো শেষ হয়নি। চলমান এই অধিকার আদায়ের ধারাকে একুশের চেতনা সমানভাবে উদ্বুদ্ধ করে, শক্তি ও প্রেরণা জোগায়, এটি অতীব স্বীকার্য এবং তাৎপর্য মন্ডিত।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামে মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ক ঝটিকা আন্দোলন ও কাজ শুরু হয়েছিল উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্রিটিশ শাসকদের হাত ধরে। ঠিক আন্দোলন নয় প্রচেষ্টা বলা চলে। বিশ্বের অনেক আদিবাসী এবং মাইনরিটি আছে এমন দেশে মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ক সংগ্রাম বিংশ শতকের ত্রিশের দশক থেকে হয়ে আসছিল। আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক, সচেতন বুদ্ধিজীবীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আওয়াজ তুলেছিলেন। মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ে ইউনেস্কো ১৯৫৩ সালে বলেছিল- ‘It is axiomatic that the best medium for teaching a child is (his or her) mother tongue.’

বাংলাদেশ হওয়ার পর আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুকরণের জন্য আন্দোলনটি  প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিংশ শতকের আশি দশক থেকে পাহাড়ের মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার হাত ধরে। তিনি ১৯৭৪ সালের ১৩ই জুলাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর নিকট পাবর্ত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা সর্ম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন। প্রশ্ন দুটি ছিল ‘ক’ ও ‘খ’। তাঁর প্রশ্ন এমন ছিল যে, ‘‘পাবর্ত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ভাষা উন্নয়নে সরকারের কোন পরিকল্পনা আছে কি না? যদি থাকে তবে কবে থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে এবং যদি না থাকে তবে তার কারণ কী?’’ শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য ছিল এমন ‘‘আপাতত কোন পরিকল্পনা নেই। যেহেতু পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ সুতরাং একমাত্র বাংলা ভাষায় শিক্ষা প্রদান চলবে।’’ এতে বুঝতে বাকি ছিল না যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রথমাবস্থায় আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন মুখ থুবরে পড়েছিল। তবে স্বপ্ন যখন একবার আরম্ভ হয় তার শেষ বলে কিছুই নেই। এটি একটি চলমান আন্দোলনের ধারা ছিল। এই প্রক্রিয়ায় বিগত চার দশক অর্থাৎ বিংশ শতকের শেষ দু’দশক এবং একবিংশ শতকের প্রথম দুই দশক পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের আন্দোলনটি তুঙ্গে পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশে আদিবাসী মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন বহু মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের নাগরিক, গবেষক, লেখক, উন্নয়নকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন। যে সমস্ত এনজিও গুলো আদিবাসী মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ক অধিকার নিয়ে কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে – ইউনেস্কো, এসটিএল, সেভ দি চিলড্রেন, ইউএনডিপি, অক্সফাম, কারিতাস, কোডেক, ব্রাক, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, কেয়ার, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বান্দরবান ইকো ডেভেলপমেন্ট, সিডিএস, গ্রাউস, টংগ্যাসহ আরো অনেক উন্নয়ন সংস্থা। এদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বেসরকারি পর্যায়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের মাঝামাঝি সময় হতে বিপুল পরিমাণে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রচলন হয়ে আসছিল পাহাড় ও সমতলে। মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ক সরকারের পলিসি, পরিকল্পনা, নিয়ম ও  আইন গঠনের ব্যাপারে এডভোকেসি করেছিল ‘বাংলাদেশ ইন্ডিজিনাস  পিপলস্ ফোরাম’, পিসিজেএসএস, এমএলই ফোরাম, CAMPE, NCIP, JAP। এদের সহায়তায় বিগত চার দশক ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস, সভা, মিটিং, সেমিনার, সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী শিশুদেরকে সরকার কর্তৃক মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদানের দাবিটি জোরালোভাবে উঠে এসেছিল। এখনো স্থানীয় ও দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এতে বহুমাত্রিকভাবে আদিবাসী মাতৃভাষা উন্নয়নে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সহায়তা ও কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন সংস্থাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম কমে এসেছে। বৃক্ষের বৃদ্ধি একদিনের নয়, দীর্ঘ সাধনায় পরিপূর্ণ রূপ গঠন হয় এবং সামর্থ্যবান হয়ে পাতা, বাকল, কাঠ, ফুল, ফল, সুগন্ধ, ছায়া দিয়ে তার সার্থকতার কথা প্রকাশ করে। আদিবাসী ভাষাগুলোও একদিনে বেড়ে উঠবে। বহু ঘাত প্রতিঘাত, ত্যাগ, ধ্যান, চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে সাংগঠনিক রূপ লাভ করবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বেও আদিবাসী মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলনের ঐতিহাসিক প্রয়াস ছিল। আজকে বাংলাদেশে আদিবাসী ভাষাগুলোকে যেভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে পূর্বে তেমনটি ছিল না। তবে তৎসময়কালে বিজ্ঞ ও বিদগ্ধ জনের আলোচনার কেন্দ্রে না থাকলেও চাকমা, মারমা ভাষা বৈদ্যশাস্ত্র, পুঁতি, বিজগ, ধর্মীয় গুরুর (লরী বা ভান্তে ) নিকট চর্চা ছিল। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের পাতায় ভর করে আছে ব্রিটিশ শাসকদের মাতৃভাষায় শিক্ষা চালুকরণের উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্যোগ। ১৮৬৩ সালে চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি (চন্দ্রঘোনায় বোডিং স্কুল) বাংলা ও ইংরেজি বাদে চাকমা ও মারমা ভাষায় ক্লাসে শেখানো হতো। এই ক্লাসগুলো চাকমা ভাষা ক্লাস ও মারমা ভাষা ক্লাস নামে পরিচিত ছিল। চাকমা ভাষা ক্লাস বেশি দূর চালু না থাকলেও মারমা ভাষা ক্লাস ১৯১০ সাল পযর্ন্ত চলমান ছিল বলে জানা যায়। মারমাদের ক্যাংস্কুলে মারমা ভাষা শেখানোর ধারা চলমান ছিল। ব্রিটিশ ভারতবর্ষের ১৯০১ সালের আদমশুমারি মতে জানা যায়, চাকমাদের ২১৫৬ জন পুরুষ, ৪৪ জন নারী শিক্ষিত ছিল। তার মধ্যে ৭৮৮ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারী বাংলা এবং ৫৫ জন পুরুষ ইংরেজি জানতো। অবশিষ্ট পুরুষ ও স্ত্রীলোক চাকমা ভাষা লিখতে, পড়তে পারতো। এরমধ্যে ১২ জন পুরুষ মঘ (মারমা) ভাষা জানত। এটাই বৃটিশদের প্রচেষ্টার ফল ছিল। বৃটিশরা বাঙালিদের বাংলা ভাষা উন্নয়নে যেরূপ সহায়তা করেছিল তদ্রুপ চাকমা মারমা ভাষা শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রচলনে এগিয়ে এসেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩৮ সালে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা প্রসারে Olnspector of Schools নামে একটি আলাদা শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হয় ১৫ জন সদস্য নিয়ে। তৎসময় এই বোর্ড যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছিল শিক্ষা প্রসারে। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালে রাঙ্গামাটি গভর্মেন্ট হাই স্কুলের সুপারিন্টেন্ড মি. মিলার ‘চাকমা  প্রাইমার’ নামক স্কুল পাঠ্য প্রকাশ ও চালুর চেষ্টা করেন। আবার ১৯৫৯ সালে নোয়ারাম চাকমার ‘চাকমার প্রথম শিক্ষা’ নামে একটি শিশু শিক্ষা পুস্তক চালু করেন। এছাড়া হরকিশোর চাকমাও একটি বই লেখেন। নোয়ারাম চাকমার বইটি তৎকালীন টেক্সটবুক বোর্ডের অনুমোদন পেলেও কিছু দূর যাওয়ার পর তেমন অগ্রগতি পায়নি। মূলত সামন্ত প্রভুদের উদাসীনতার জন্য বন্ধ হয়েছিল এমন মন্তব্য করে থাকেন বিদগ্ধ জনেরা। ১৯৬৯ সালের ৬ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন সার্কেল প্রধান তাদের ২৫তম অধিবেশনে চাকমা ও বার্মিজ ভাষাকে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনীহার কারণে সেই প্রচেষ্টাটি অঙ্কুরেই ধ্বংস হয়ে যায়। ইতিহাসের এই প্রচেষ্টা গুলোর পিছনে যাদের হাত ছিল তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে কৃতজ্ঞতা ও স্মরণ করতে চাই, অন্তত তাঁদের দেখানো পথ ও স্বপ্নগুলোর বহমান এই ধারাকে পরবর্তী প্রজন্ম মহাসম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

বাংলাদেশে পরবর্তী সময়ে ঝটিকা কাজ যে হয়নি তা নয়। আদিবাসী মাতৃভাষার উন্নয়নে আটের দশকে রাখাইন ভাষা নিয়ে কাজ হয়েছিল। ‘রাখাইন স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ’ এর সাবেক নেত্রী কচিন ঠৈ বলেছিল, আটের দশকে সরকারী উদ্যোগে কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালি ও বরগুনার রাখাইন অধুষ্যিত অঞ্চলে ১৭টি রাখাইন ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হয়। মাত্র ৬-৭টি স্কুল কোন রকম টিকে ছিল। এসব বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত রাখাইন ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান ও শিক্ষকের বেতন দেয়া সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হলেও অল্প কয়েক বছরের মধ্যে সরকারের উদাসীনতায় পুরো উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। আজকাল জানতে পেরেছি পটুয়াখালীতে তিন-চারটি রাখাইন ভাষা শিক্ষার বিদ্যালয় খুঁড়িয়ে চলছে। সরকারের নজরে আসুক আর স্কুলগুলো সচল থাকুক এমনটাই আশা রাখি।

মারমা ও চাকমা ভাষা শিক্ষা যখন চলছিল সমানভাবে অন্যান্য জাতির মধ্যেও ভাষা এবং বর্ণমালা উদ্ভাবনের কাজ চলছিল নিভৃতে। ১৯৫২ সালে দৌলিয়ান বম ‘বু-বুলবু’ নামে প্রথম বম ভাষার প্রাইমার প্রকাশ করেন। ম্রোদের দেবতাপুত্র ম্যানলে ম্রো ১৯৮৬ সালে ‘ক্রামা’ ধর্ম ও ‘ম্রো চাহ্ চা’ নামে হরফ আবিষ্কার করেন।

মং মং চাকের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ২০১০ সালে চাক প্রাইমার “আনোঃ তুঃ সিনংগাঃ” এবং ২০১৩ সালে তঞ্চঙ্গ্যা বর্ণমালা পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওদের সহায়তায় বিভিন্ন আদিবাসী ভাষার হরফ নির্ণয়, গঠন ও কম্পিউটারের ইউনিকোডে ফ্রন্ট তৈরীর মাধ্যমে শ্রীবৃদ্ধির কাজ চলে আসছে। যেসব জাতি সমূহের হরফ নির্ণয়ে সংশয় রয়েছে সেগুলোও অচিরেই পথ পাবে। বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে যখন আদিবাসী ভাষাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ চলছে ঠিক তখন বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি উঠে আসে বিগত সাল গুলোতে। ২০০৩ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপে আদিবাসী এলাকায় ১০০টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা রাখা হয় এবং NPA-II প্লানে আধুনিক উপকরণ সরবরাহের কথা বলা হয়। শামসুল হক শিক্ষা কমিশন কর্তৃক (১৯৯৬-২০০১) প্রণীত শিক্ষানীতিতে মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার প্রস্তাব ছিল তবে বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর ২০০৬ সালে পাবর্ত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পাঠ্যক্রম অক্ষুন্ন রেখে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও এর কার্যকারিতা দেখা যায়নি। জাতীয় সংস্কৃতি নীতি ২০০৬ অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন জাতিসত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিধান করেও করা হয়নি। তাই বিভিন্ন জাতিসত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। আবার ৬ এপ্রিল ২০০৯ সালে অধ্যাপক কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৭ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ২০১০ সালে তার নেতৃত্বে শিক্ষানীতি প্রনয়ণ করা হয়। উক্ত শিক্ষানীতিতে ছিল-

১৮. আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্য পুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে। এই কাজে, বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ণে আদিবাসী সমাজকে সম্পৃক্ত করা হবে।

১৯. আদিবাসী প্রান্তিক শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

২০. আদিবাসী অধুষ্যিত (পাহাড়া কিংবা সমতল) যে সকল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সে সকল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। যেহেতু কোন কোন এলাকায় আদিবাসী বসতি হালকা তাই একটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আবাসিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে সেদিকে নজর দেওয়া হবে। (চলবে)

স্মরণিকা চাকমা: শিক্ষক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here