জনজাতির কন্ঠ ডেস্ক : ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী ‍দিবস কে সামনে রেখে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। শনিবার ৩ আগস্ট সকাল ১১ ঘটিকায় সুন্দরবন হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং-এর পরিচালনা ও জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু লারমা)’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী নুমান আহমেদ খান, বর্ষীয়ান আদিবাসী নেতা অজয় মৃ, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনোক্রেট এক্সপার্ট মেম্বার জান্নাতুল ফেরদৌসি প্রমুখ।

এসময় ১৩ দফা দাবি পূরণের আহবান জানিয়ে একটি লিখিত পত্র পাঠ করা হয়। দাবি সমূহ-

১. আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানসহ আদিবাসীদের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। যে সকল অঞ্চলে আদিবাসীরা বসবাস করে, সেসব অঞ্চলে তাদের ভাষা চর্চা ও উন্নয়নে জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমিসমূহ যাতে আদিবাসী ভাষা চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তার জন্য বাজেট বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

২. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে একটি সেল বা বিভাগ স্থাপন করা এবং আদিবাসী যোগ্য ও দক্ষ লোকের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা পরিষদ গঠন করা ও এ বিষয়ে একটি নীতিমালা গ্রহণ করা;

৩. এ পর্যন্ত মাত্র ৫টি আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে, কিন্তু কোথাও পৃথকভাবে আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। অবিলম্বে বিশেষ ব্যবস্থায় আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আরও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

৪. শিক্ষার অধিকার মৌলিক মানবাধিকার। আদিবাসীদের শিক্ষা বিস্তারে সুস্পষ্ট উল্লেখসহ বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। শিক্ষা নীতির সুফল যাতে আদিবাসীরা ভোগ করতে পারে, তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

৫. সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নে আদিবাসীদের গুরুত্ব সহকারে অংশীদারী করা এবং আদিবাসী সংগঠন সমূহ যাতে এসডিজি বাস্তবায়নে সরাসরি এবং যথাযথ অবদান রাখতে পারে, তা সরকার কর্তৃক নিশ্চিত করা;

৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করা এবং এ লক্ষ্যে সময় সূচি ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করা;

৭. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করা। আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন ও ১৬৯ নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করা;

৮. সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করাসহ মধুপুর বনে গারো ও কোচদের ভূমিতে ঘোষিত রিজার্ভ ফরেস্ট অবিলম্বে বাতিল করা;

৯. আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস কর্তৃক প্রণীত আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন করা;

১০. মৌলভীবাজার জেলার ঝিমাই, পাল্লাতল ও নাহার খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়াদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের উপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ বন্ধ করা। চা বাগানের লীজ বাতিল করা এবং বাগানের গাছ কাটা বন্ধ করা;

১১. আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ করা। আদিবাসী নারীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;

১২. গাবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উপর চরম মানিবাধিকার লংঘনের ঘটনায় জড়িত সকল দুস্কৃতিকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং অবিলম্বে সাঁওতালদের ভূমি ফেরত দেওয়া;

১৩. জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here